মোছাম্মৎ সুমাইয়া নামে এক গৃহবধূ নরসিংদীর সিএন্ডবি রোডের আল ফালাহ হাসপাতালে পুত্রসন্তান জন্ম দেন গত ৭ মে। নবজাতকের ঠান্ডাজনিত সমস্যা দেখা দেয়। এরপর ৯ মে সকাল সোয়া ১০টার দিকে নানী পরীবানু তাকে নিয়ে নরসিংদী সদর হাসপাতালের দোতলায় শিশু বিভাগে নিয়ে যান চিকিৎসা করাতে। চিকিৎসকের কাছে সিরিয়াল থাকায় নাতিকে কোলে নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন তিনি। এ সময় অপরিচিত এক নারী শিশুটিকে তার কোলে দিয়ে পরীবানুকে নিচতলা থেকে একজনকে ডেকে আনতে বলেন। সরল বিশ্বাসে তিনি অপরিচিত নারীর কোলে নাতিকে রেখে নিচে যান। এরই মধ্যে শিশুটিকে নিয়ে পালিয়ে যায় ওই নারী। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে নাতি এবং নারীকে না পেয়ে চিৎকার শুরু করেন তিনি।

শিশুটির সন্ধান না পেয়ে পুলিশের দারস্থ হন স্বজনরা। দ্রুত গতিতে পুলিশ শিশু উদ্ধার অভিযানে নামে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন, হাসপাতাল ও আশপাশের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ। ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। বিরতিহীন অভিযান চালিয়ে ১৪ ঘণ্টার মাথায় নবজাতককে উদ্ধার করা হয়। ব্রাহ্মন্দী মালাকার মোড়ে চিত্র রঞ্জন মালাকরের বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে রাত ১টায় নবজাতককে ফিরিয়ে দেওয়া হয় মায়ের কোলে। বুকের ধনকে ফিরে পেয়ে আবেগ-আপ্লুত হয়ে পরে সুমাইয়া। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন নরসিংদী জেলা পুলিশের প্রতি। সুমাইয়ার স্বামীর নাম আনিসুর রহমান। সুমাইয়ার বাবার বাড়ি মাধবদী থানার চাঁন্দের পাড়ায়।

নরসিংদীর পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম বলেন, চিত্র রঞ্জনের মেয়ে লিপিকার বিয়ে হয়েছে বেশ কিছুদিন আগে। পরপর দুটি কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ার পর তার গর্ভে এখন আরেকটি অনাগত সন্তান। আবার কন্যা সন্তান হবে-এটি জানার পর লাঞ্ছনার শিকার হতে হয় লিপিকাকে। তাই পুত্র সন্তানের জন্য বিভিন্ন মানুষের কাছে দেন দরবার করেন তিনি। জনৈক নারী তাকে আশ্বস্ত করেন যে কোনো উপায়ে তাকে একটি পুত্র সন্তান এনে দেবে। এ কারণে ওই নারী হাসপাতালে গিয়ে নবজাতককে তার নানীর কোল থেকে কৌশলে চুরি করে নিয়ে লিপিকার কাছে তুলে দেয়। লিপিকার কাছ থেকে নবজাতককে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পরীবানু নরসিংদী মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। অজ্ঞাতনামা ওই নারীকে খুঁজছে পুলিশ।

বিষয় : শিশু চিকিৎসা

মন্তব্য করুন