ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি সম্পর্কে 'কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত' মন্তব্য করায় তার প্রতি ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।

বুধবার সংগঠনের সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, সহসভাপতি শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, মুক্তিযোদ্ধা কলামিস্ট সৈয়দ মাহবুবুর রশীদ, শিক্ষাবিদ মমতাজ লতিফ, অধ্যাপক শিল্পী আবুল বারক আলভী ও সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই নিন্দা জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, "গত ১০ মে কূটনীতি বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ডিক্যাবের এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের ‘কোয়াড’ জোটে বাংলাদেশের কল্পিত যোগদানের বিরোধিতা করে যে সব বিরূপ ও রূঢ় মন্তব্য করেছেন আমরা তা কূটনীতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত এবং বাংলাদেশের সার্বভৌম মর্যাদার জন্য হানিকারক বলে মনে করি। কথিত ‘কোয়াড’-এ বাংলাদেশের যোগদান বিষয়ে বাংলাদেশ থেকে সরকারিভাবে কোনও বক্তব্য প্রদান না করা সত্ত্বেও চীনা রাষ্ট্রদূত যে ভাষায় এর বিরোধিতা করেছেন তাতে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশসমূহে চীনের আধিপত্যবাদী আচরণেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। আমরা চীনা রাষ্ট্রদূতের এ হেন মন্তব্যের প্রতি ক্ষোভ ও নিন্দা ব্যক্ত করছি।"

বিবৃতিদাতারা বলেন, ‘আমরা চীনা রাষ্ট্রদূতকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই- ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের মূল্যে বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যে নৃশংস গণহত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল চীন প্রত্যক্ষভাবে পাকিস্তানকে মদদ দিয়ে এই গণহত্যায় সহায়তা এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবদ্দশায় চীন বাংলাদেশকে কূটনৈতিক স্বীকৃতি পর্যন্ত দেয়নি। বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর পররাষ্ট্র নীতি ‘সকলের প্রতি বন্ধুত্ব কারও প্রতি বৈরিতা নয়’ অনুসরণ করে পাকিস্তান ও চীন সহ সকল দেশের সঙ্গে সমমর্যাদার কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। এর অর্থ এই নয় যে, বাংলাদেশ আয়তনে ছোট বলে আমাদের সার্বভৌম মর্যাদার প্রতি কারও কোনও অবমাননাকর উক্তি আমাদের মেনে নিতে হবে।'

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা নিজেদের দেশ ও জনগণের স্বার্থে কোন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রাখব, কোন দেশের সঙ্গে কী চুক্তি করব সেটা সম্পূর্ণভাবে আমাদের নিজস্ব বিষয়। এ ক্ষেত্রে চীন বা অন্য কোনও রাষ্ট্রের অভিভাবকত্ব বা হুমকি আমরা কখনও বরদাশত করব না। এ বিষয়ে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর উপযুক্ত জবাবের জন্য তাঁকে আমরা অভিনন্দন জানাই।’