ভাঙচুরের পর এবার ধর্ষণের মামলায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া নোমান ফয়েজী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ফয়েজী বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জয়ন্তী রানী রায়ের আদালত এ জবানবন্দি গ্রহণ করেন। চট্টগ্রাম আদালতের জেলা পুলিশের কোর্ট পরিদর্শক হুমায়ূন কবীর বলেন, ধর্ষণ মামলায় জবানবন্দি শেষে আসামি ফয়েজীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি দোষ স্বীকার করে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জবানবন্দিতে আসামি জানান- ফেসবুকে এক নারীর সঙ্গে পরিচয় হয় তার। সেই সূত্র ধরে ওই নারীকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে হাটহাজারী মাদ্রাসার পাশে নিয়ে এসে বাসা করে দেন। ওই ভাড়া বাসায় তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে থাকতেন। পরে ওই নারী যখন বুঝতে পারেন ফয়েজী তাকে বিয়ে করবেন না, তখন ওই নারী হাটহাজারির ওই বাসা ছেড়ে চট্টগ্রাম শহরে চলে আসেন। সেখানেও ফয়েজী গিয়ে আবার বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ করেছেন। ওই নারীকে তিনি প্রায় দেড় বছর বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ করেছেন বলে জবানবন্দিতে জানান ফয়েজী।

মামুনুলকাণ্ডের পর গত ৬ মে রাতে হাটহাজারী থানায় ওই নারী বাদী হয়ে ফয়েজীকে আসামি করে ধর্ষণ মামলা করেন। মামলায় বলা হয়, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ফেসবুকের মাধ্যমে ওই নারীর সঙ্গে জাকারিয়া নোমান ফয়েজীর পরিচয় হয়। মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটিংয়ের মাধ্যমে তিনি ওই নারীকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে হাটহাজারীতে আসতে বলেন। তিনি ফয়েজীর কথামতো হাটহাজারী আসেন। এক বছর ধরে ভাড়া বাসায় অবস্থানকালে একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করেন ফয়েজী। এরপর বিষয়টি সামনে আসে।

প্রসঙ্গত, গত ৫ মে কক্সবাজারের চকরিয়ায় আত্মগোপন থাকা অবস্থায় হেফাজত নেতা ফয়েজীকে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরপর তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর জবানবন্দী দিলেন তিনি। ফয়েজী হাটহাজারি থানায় ভাঙচুর মামলারও আসামি।