কক্সবাজারের চকোরিয়ার মো. কায়সারের (১৯) বাবা শামসুল আলম গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। চিকিৎসার খরচ যোগাতে পারছিলেন না ওই যুবক। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন বন্ধু মো. রহিমের (১৮) সঙ্গে। বাবার চিকিৎসার টাকা সংগ্রহে বন্ধুরা মিলে সিদ্ধান্ত নেন মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের। শেষপর্যন্ত কিশোর বয়সী চালক মো. মোবিনকে হত্যা করে সেই মোটরসাইকেল ছিনতাই করেন তারা। মানবিক কাজ করতে গিয়ে নৃশংসতা চালিয়ে খুনি হয়ে ওঠেন উঠতি বয়সের ওই দুই যুবক।

গত বুধবার রাতে কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকা থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি কায়সার ও রহিমকে গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য বেরিয়ে আসে। ছিনতাইয়ের মোটরসাইকেল ক্রেতা আলমগীরকেও (৩২) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদরদপ্তরে সংবাদ সম্মেলন করে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার ও ক্লু-লেস মোবিন হত্যাকাণ্ডের তথ্য দেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। সেখানে সিআইডির চট্টগ্রাম জোনের ডিআইজি হাবিবুর রহমান বলেন, চকোরিয়ার বাসিন্দা ১৬ বছর বয়সী মোবিন স্থানীয়ভাবে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাত। বান্দরবানের লামায় যাওয়ার কথা বলে কায়সার ও রহিমসহ অপর এক যুবক গত ১৮ মে রাতে মোবিনের মোটরসাইকেল ভাড়া নেয়। কিন্তু চালক মোবিনের সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারের লোকজন তাকে খুঁজতে থাকে। এর একপর্যায়ে ২১ মে বান্দারবানের লামা সড়কে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। কিন্তু ওই হত্যাকাণ্ডটি ক্লু-লেস হওয়ায় সিআইডি ছায়া তদন্ত শুরু করে।

ডিআইজি বলেন, তদন্ত শুরুর পর প্রযুক্তির মাধ্যমে কায়সার ও রহিমকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাদের গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা মোবিনকে হত্যার কথা স্বীকার করে। তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও বিক্রি করা মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।

হত্যার কারণ সম্পর্কে সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কায়সার জানিয়েছে, তার বাবা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তার টাকার দরকার ছিল। বন্ধুদের ঘটনা বললে, তারা মোটরসাইকেল ছিনতাই করে বিক্রি করে টাকা সংগ্রহ করতে বলে। এরপরই মোবিনের মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে বন্ধুরা মিলে। এর আগেও ওই মোটরসাইকেলে তারা ভাড়ায় চড়েছিল।

গ্রেপ্তার দুইজন জানিয়েছে, তারা মোটরসাইকেল নিয়ে লামায় হলিরকাটা ঝিরির কাছাকাছি গেলে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার কথা বলে সেটি থামায়। এরপর রহিম মোবিনের দুই পা ও আব্দুল্লাহ নামে অপর একজন দুই হাত চেপে ধরে। ওই সময় কায়সার ছুরি দিয়ে গলায় আঘাত করে। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে পেট ছিদ্র করে দেয়। তাকে পাহাড়ের নিচে ফেলে দেওয়া হয়। হত্যাকাণ্ডে থাকা আব্দুল্লাহকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অপর একটি সংস্থা গ্রেপ্তার করেছে বলে সিআইডি সূত্র জানিয়েছে।

ওই অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া সিআইডির পুলিশ সুপার মুক্তা ধর সমকালকে বলেন, বাবার চিকিৎসার টাকা যোগাতে কায়সার ও তার বন্ধুরা এমন নৃশংসতা চালালেও শেষ পর্যন্ত মোটরসাইকেল বিক্রির টাকা পায়নি। কক্সবাজারের সমিতিপাড়া এলাকার আলমগীর চোরাই মোটরসাইকেল কেনেন। কায়সার ও রহিম তার জিম্মায় মোটরসাইকেল রেখে মাত্র দুই হাজার টাকা পায়। বিক্রির পর তাদের টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও আলমগীর তাদের ঘোরাচ্ছিল।

এই কর্মকর্তা আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা তরুণ। এদের নির্দিষ্ট কোনো পেশা নেই। পেশাদার অপরাধী না হলেও এলাকায় তাদের বিরুদ্ধে ছোটখাটো অপরাধের তথ্য তারা পেয়েছেন।