কর্ণফুলী নদীর তলদেশ পলিথিনমুক্ত রাখতে সংযোগ খালগুলোর মুখে জাল (নেট) বসানোর পরামর্শ দিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। পাশাপাশি এ বিষয়ে সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। রফিকুল ইসলাম বীরউত্তমের সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য শাজাহান খান, মজাহারুল হক প্রধান, রনজিত কুমার রায়, মাহফুজুর রহমান, আছলাম হোসেন সওদাগর এবং এসএম শাহজাদা বৈঠকে অংশ নেন।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় বন্দর কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি, চট্টগ্রাম বন্দরের বিস্টেম্ফারক ও ঝুঁকিপূর্ণ দ্রব্যাদির মজুদ, রক্ষণাবেক্ষণ, হ্যান্ডলিং ও পরিবহন আইন এবং নীতিমালা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।

বৈঠক শেষে সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান সাংবাদিকদের বলেন, কর্ণফুলী নদীতে যেসব খাল দিয়ে এই বর্জ্য আসে সেই খালগুলোর সঙ্গে নদীর সংযোগস্থলে নেট দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। স্লুইসগেট করুক বা যা-ই করুক, সেখানে পলিথিন পরিস্কার করা লোক লাগবে। কথা ছিল- সিটি করপোরেশন এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এটা পরিস্কার করবে। মন্ত্রণালয় এ নিয়ে মিটিংও করেছিল। কিন্তু ফলপ্রসূ কিছু পাওয়া যায়নি। এ জন্য বলা হয়েছে- বন্দরের টাকায় কাজটি করা হবে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এক গবেষণা বলছে, কর্ণফুলীর অনেক স্থানে পলিথিন ও প্লাস্টিকের দুই থেকে সাত মিটার স্তর জমেছে। ২০১৯ সালের মে মাসে কর্ণফুলীর নাব্য ফেরাতে ২৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে 'সদরঘাট থেকে বাকলিয়ার চর খনন' প্রকল্প শুরু করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চার বছরের এ প্রকল্পটি ২০২৩ সালে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে তিনটি ছোট ড্রেজার দিয়ে খননকাজ শুরু করা হয়। কিন্তু নদীর তলদেশে জমে থাকা পলিথিনের কারণে সে কাজ থেমে যায়।

গত জানুয়ারিতেও কর্ণফুলীর পলিথিন অপসারণ নিয়ে আলোচনা করে সংসদীয় কমিটি। ওই বৈঠকে বুড়িগঙ্গা এবং কর্ণফুলী নদীর আবর্জনা ও পলিথিন অপসারণ করার জন্য জরুরি ভিত্তিতে 'গ্র্যাব ড্রেজার' সংগ্রহ করে কার্যক্রম গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে আমদানি করা যেসব কন্টেইনারে বিপজ্জনক, দাহ্য ও বিস্টেম্ফারক রয়েছে সেসব কন্টেইনারের গায়ে পণ্যের নাম সুনির্দিষ্টভাবে লিপিবদ্ধ এবং লাল স্টিকার সংযুক্তি বাধ্যতামূলক করার জন্য কমিটি সুপারিশ করে।

শাজাহান খান বলেন, বন্দরে দাহ্য পদার্থ ব্যবস্থাপনার পৃথক নীতিমালা রয়েছে। সে অনুযায়ী কাজ হচ্ছে। যেসব কন্টেইনারে বেশি বিপজ্জনক পদার্থ থাকবে, সেগুলোতে লাল স্টিকার দিতে বলা হয়েছে।

বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দরের চুরি রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্টগ্রাম বন্দরের ১০১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী শহীদ হওয়ায় তাদের স্মরণে মেরিন মিউজিয়াম স্থাপনের সুপারিশ করা হয়।