যুদ্ধবিধ্বস্ত লিবিয়ায় কর্মী পাঠানো নিষিদ্ধ। উত্তর আফ্রিকার এ দেশটিতে বাংলাদেশ থেকে কর্মী প্রেরণে সরকার ও উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো নথির বরাতে বলা হচ্ছে, লিবিয়ায় কর্মী পাঠাতে দেশটির 'জাতীয় ঐক্যমতের সরকারের' জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে গত এপ্রিলে চুক্তি করেছে বাংলাদেশের ১৫টি রিক্রুটিং এজেন্সি!

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় বলেছে এ 'চুক্তির' বিষয়ে তারা কিছুই জানে না। কথিত চুক্তিতে যেসব এজেন্সির নাম এসেছে, তারা বলেছে পুরো বিষয়টি ভুয়া। তাদের বিতর্কিত করতে ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বীরা জাল কাগজপত্র তৈরি করে ছড়াচ্ছে।

প্রবাসী কল্যাণ সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন সমকালকে বলেন, লিবিয়ায় কর্মী পাঠানোর কোনো সুযোগ নেই। আর যে চুক্তির কথা বলা হচ্ছে, তার বিষয়ে মন্ত্রণালয় অবহিত নয়। কেউ মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে অনুমতি নেয়নি। চুক্তি হয়ে থাকলেও এর কোনো ভিত্তি নেই।

কথিত চুক্তিতে যে ১৫টি এজেন্সির নাম রয়েছে, সেই তালিকার চার নম্বরে আছে 'ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাল'। প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনা পরিচালক রহুল আমিন স্বপন সমকালকে বলেন, এ ধরনের কোনো চুক্তিই হয়নি। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সংগঠন বায়রার আসন্ন নির্বাচনের আগে তাদের বিতর্কিত করতে ভুয়া নথিপত্র ছড়ানো হচ্ছে। বায়রার নির্বাচনে 'সম্মিলিত গণতান্ত্রিক জোটের' প্যানেলের তিনিসহ ২৭ জনের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যা ষড়যন্ত্রমূলক ও অগণতান্ত্রিক। তারই ধারাবাহিকতায় এসব ভুয়া কাগজপত্র ছড়ানো হচ্ছে।

গত ২৭ এপ্রিল বায়রার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। উচ্চ আদালত নির্বাচনী তফসিল এক মাসের জন্য স্থগিত করেছেন। সদ্য সাবেক কমিটির মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান সমকালকে বলেছেন, তিনি এমন চুক্তির কথা শোনেননি, জানেনও না।

মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ২০১২ সালে লিবিয়ার গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, তা এখনো চলছে। দেশটিতে স্থিতিশীল কোনো সরকার নেই। 'জাতীয় ঐক্যমতের সরকার' আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হলেও তেলসমৃদ্ধ লিবিয়ার বিভিন্ন অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে গৃহযুদ্ধে শামিল মিলিশিয়া বাহিনীগুলোর স্বঘোষিত সরকার।

যুদ্ধের কারণে সাত বছর আগে লিবিয়ায় কর্মী পাঠানো বন্ধ করে বাংলাদেশ। কিন্তু ইউরোপের মোহে প্রতিবছর হাজার হাজার বাংলাদেশি কর্মী দালালের মাধ্যমে পর্যটন ভিসায় দুবাই কিংবা জর্ডান থেকে মিসর, সুদান হয়ে অবৈধভাবে লিবিয়া যাচ্ছেন। নৌকায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টায় ডুবে মরছেন শত শত অভিবাসী। দালালের হামলা-নির্যাতনে প্রাণ হারাচ্ছেন অনেকে। তাদের অনেকে প্রতিমাসেই নিঃস্ব হয়ে দেশে ফিরছেন নির্যাতনের ক্ষত নিয়ে। যুদ্ধের কারণে লিবিয়া নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূতও দেশটিতে থাকেন না। পাশের দেশ তিউনিসিয়া থেকে দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, কর্মী পাঠাতে হলে সরকারের অনুমতি নিতে হয়। দুই দেশের মধ্যে চুক্তি বা সমঝোতাস্মারক সই হতে হয়। এভাবে রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে চুক্তি করে কর্মী নিয়োগের সুযোগ নেই। লিবিয়ায় স্থিতিশীল সরকার না থাকায় চুক্তির সত্যতা নিশ্চিত করাও সম্ভব নয়।