হেফাজতে ইসলামের নেতাদের বিষয়ে তথ্য চেয়ে পুলিশসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থায় চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক ওই সংগঠনের ৫০ নেতার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার দুদক সচিব ড. মুহা. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন, 'যেসব জায়গায় প্রয়োজন আমরা সেখানে সেখানে তথ্য চেয়েছি। বাংলাদেশ ব্যাংক, বিভিন্ন জায়গার ভূমি অফিসসহ যেসব জায়গায় অর্থসম্পদের হিসাব থাকে, সেসব জায়গায় চিঠি দেওয়া হয়েছে।'

দুদক সূত্র জানায়, হেফাজত নেতাদের তথ্য চেয়ে এর আগে পুলিশের করা মামলাগুলোর কপি চেয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে হেফাজত নেতাকর্মীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে তাণ্ডব চালিয়েছে। ওইসব ঘটনায় তাদের আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। দুদক পুলিশের কাছে ওইসব মামলার কপি চেয়েছে। ঢাকার মতিঝিল, পল্টন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নেত্রকোনা, চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানাসহ সংশ্নিষ্ট থানাগুলোতে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

হেফাজত নেতাদের পাসপোর্ট সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড পাসপোর্ট অফিসে চিঠি পাঠানো হয়। তাদের জমি সংক্রান্ত তথ্য থেকে ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রারসহ সংশ্লিষ্ট জেলা রেজিস্ট্রারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ওই ৫০ নেতার ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটেও (বিএফআইইউ) চিঠি পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, দুদক পরিচালক আকতার হোসেন আজাদের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের বিশেষ টিম হেফাজতের ৫০ নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করছে। এ বিষয়ে গত ১৭ মে কমিশন একটি আদেশ জারি করেছে। ওই আদেশে বলা হয়, হেফাজতে ইসলামের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে সংগঠনের তহবিল, বিভিন্ন মাদ্রাসা, এতিমখানা, বিভিন্ন ইসলামী প্রতিষ্ঠানের অর্থ এবং ধর্মীয় কাজে বিদেশি সহায়তার অর্থ আত্মসাৎ, দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জন, মানি লন্ডারিং ও অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষ অনুসন্ধান টিমের অন্য সদস্যরা হলেন দুদকের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ নুরুল হুদা, সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী, মো. সাইদুজ্জামান ও উপসহকারী পরিচালক সহিদুর রহমান।