গাজীপুরের কৌলটিয়া এলাকায় ভার্গো সিগারেট কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ব্যান্ডরোলসহ সিগারেট জব্দ করেছেন ভ্যাট গোয়েন্দারা। এরপর প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক হিসাব তলব করেছে সংস্থাটি। অভিযানে এক লাখ ৯৯ হাজার শলাকা অবৈধ সিগারেট ও এক লাখ ৫৬ হাজার ব্যান্ডরোল জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে পুরোনো ও ব্যবহূত ব্যান্ডরোলের দুটি কার্টনও পাওয়া যায়।

রোববার মধ্যরাতে কারখানায় ওই অভিযানের পর সোমবার সকালে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকায় প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে নথি জব্দ করা হয়। তবে কারখানাটি সিলগালা করা হয়নি।

ভ্যাট ফাঁকির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ভ্যাট গোয়েন্দারা এই অভিযান চালান। সংস্থার উপপরিচালক তানভীর আহমেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন। অভিযানে সহায়তা দেন আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা।

অভিযানে থাকা ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেন, ভার্গো সিগারেট কারখানায় 'পার্টনার', 'দেশ গোল্ড' ও 'দেশ ব্ল্যাক' ব্র্যান্ডের সিগারেট উৎপাদন করা হতো। জব্দ করা সিগারেটের মধ্যে ৫৬ হাজার শলাকা পার্টনার ব্র্যান্ড, ৮৩ হাজার শলাকা দেশ গোল্ড এবং ৬০ হাজার শলাকা দেশ ব্ল্যাক ব্র্যান্ডের। এসব কম দামি সিগারেট সিলেট, বরিশাল ও কুমিল্লার প্রত্যন্ত এলাকায় বাজারজাত করা হতো।

ওই কর্মকর্তা বলেন, প্রতিষ্ঠানটি ভার্গো টোব্যাকো লিমিটেড নামে ভ্যাট নিবন্ধন নিয়েছে এবং এটি ঢাকা উত্তর ভ্যাট কমিশনারেটের আওতায় ভ্যাট প্রদান করে আসছিল। ভ্যাট আইন ভঙ্গের অভিযোগে ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তরে তদন্ত চালাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে বারিধারা ডিওএইচএস এলাকায় ভ্যাট গোয়েন্দারা সিগারেট ফ্যাক্টরির প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে তদন্ত সংশ্নিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জব্দ করেছেন। এ ছাড়া ভার্গো সিগারেট কারখানার তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য তলব করা হয়েছে।

ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান সমকালকে বলেন, ভার্গো টোব্যাকো লিমিটেড মাসে ৮০ লাখ টাকা ভ্যাট পরিশোধ করত। তবে ভ্যাট গোয়েন্দাদের কাছে অভিযোগ ছিল, কোম্পানিটি প্রতি মাসে বিপুল অঙ্কের ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে আসছিল।