ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে লন্ডভন্ড আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়ন ও শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ও পদ্মপুকুর ইউনিয়ন। এই তিন ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ এখনও নদীর জোয়ার-ভাটার সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে আছে। তারা পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। মাথা গোঁজার ঠাঁই পর্যন্ত তাদের নেই। ইয়াস তাদের বেঁচে থাকার স্বপ্নটুকু নদীর জোয়ারে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।

২০২০ সালের ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ওই দুই উপজেলা লন্ডভন্ড করে দিয়ে যায়। মানুষ এখনও আম্পানের সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। ঠিক এক বছর পর আবার ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের তাণ্ডব। কীভাবে দুর্গত এসব এলাকায় তারা বসবাস করবে তা বুঝতে পারছে না। আদৌ কি মানচিত্রে আশাশুনির প্রতাপনগর, শ্যামনগরের দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরা ও পদ্মপুকুরের অস্তিত্ব থাকবে- সেই প্রশ্ন এখন ঘুরেফিরে দেখা দিচ্ছে। অনেকেই সেখানে বসবাসের আশা ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছে।

সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আনিসুর রহিম বলেন, শনিবার আশাশুনির প্রতাপনগরের দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছি। আম্পানের পর থেকে ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এর পর ইয়াসের তাণ্ডব। তাদের এই মুহূর্তে প্রয়োজন শুকনো খাবার ও খাবার পানি। অনেক জায়গায় এখনও সরকারি সহায়তা পৌঁছায়নি বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

প্রতাপনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসেন জানান, পুরো ইউনিয়ন পানির ওপর ভাসছে। জোয়ারের সময় নদীর পানিতে সব একাকার। স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ না করা হলে দেশের মানচিত্র থেকে প্রতাপনগর ইউনিয়নকে রক্ষা করা যাবে না। প্রকৃতির সঙ্গে এতটা যুদ্ধ করে মানুষ বসবাস করতে পারে না। আম্পান সব ধ্বংস করে দিয়েছে। এক বছরের মাথায় আবার ইয়াসের তাণ্ডব।

পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান জানান, দ্বীপ ইউনিয়ন পদ্মপুকুর। চারটি জায়গা দিয়ে এখনও জোয়ারের পানি গ্রামে উঠছে। গোটা ইউনিয়নের মানুষ জোয়ার-ভাটার সঙ্গে বসবাস করছে।

গাবুরা ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুর রহমান গাজী জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেঁড়িবাঁধ ভেঙে অসংখ্য মানুষ পানিবন্দি ও গৃহহীন হয়ে পড়েছে। ভেসে গেছে চিংড়ি ঘের। মানুষ প্রচণ্ড আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। কয়েকটি স্থানে এখনও বেড়িবাঁধ সংস্কার করা সম্ভব হয়নি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভাগ-১-এর প্রকৌশলী আবুল খায়ের জানান, ভাঙনকবলিত এলাকায় স্থানীয় গ্রামবাসী পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করছে। শিগগিরই এসব এলাকা সংস্কার করা সম্ভব হবে।

জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল জানান, ইয়াস দুর্গত এলাকার মানুষ যাতে খাদ্যের অভাবে কষ্ট না পায়, সে জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।