ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকনসহ সংগঠনটির অন্তত ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসির জনতা ব্যাংকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে মোটরসাইকেল শোডাউন ও মিছিল করেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষির্কী উপলক্ষে টিএসসিতে শিক্ষা ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি ছিল। আমাদের নেতাকর্মীরা টিএসসিতে অবস্থান করলে ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান পিকুলের নেতৃত্বে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে দলের প্রায় ২০ জন আহত হন। এদের মধ্যে ৬ জনকে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।

ছাত্রলীগের হামলা পরবর্তীতে সংগঠনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, হামলার পরপরই আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং প্রক্টরকে এ বিষয়ে অবহিত করি। তবে তারা এ বিষয়ে  উদাসীনতা দেখিয়েছেন।

রাকিব আরও বলেন, ক্যাম্পাসে এই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে প্রশাসনই আইনগত ব্যবস্থা নেয়। কিন্তু প্রশাসন তা করেনি। পুলিশও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তাই আমরা  প্রশাসনের উপর ভরসা করতে পারিনি আর কোনো আইনগত ব্যবস্থাও নেইনি।

ছাত্রদলের উপর হামলার ঘটনা অস্বীকার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমরা কয়েকদিন ধরে দেখতে পাচ্ছি- সামরিক শাসক, অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী মেজর জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকীকে কেন্দ্রে করে ছাত্রদল রীতিমতো সন্ত্রাস শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, উপদলীয় কোন্দল বৃদ্ধি পেয়েছে। এর বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আজ তারা নিজেদের মধ্যে ঘটনাটা ঘটিয়েছে। আমরা মনে করি, এটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশের ওপর একটি আঘাত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ। পূর্ব অনুমিত ছাড়া ছাত্রদলের এ ধরনের অপকর্ম এবং স্বেচ্ছাচারী কাজের দায় বিশ্ববিদ্যালয় নেবে না। তাদেরই নিতে হবে।