জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার নতুন অর্থ বছরের (২০২১-২২ বাজেট) পেশ হবে। বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। করোনাকালে বসা এবারের বাজেট অধিবেশনও গতবছরের মতোই সংক্ষিপ্ত হতে পারে।

বুধবার বিকেল পাঁচটায় অধিবেশন শুরু হওয়ার পরপরই মূলতবি হয়ে যাচ্ছে। রেওয়াজ অনুযায়ী চলতি সংসদের কোনও সদস্যের মৃত্যুতে পরবর্তী অধিবেশনের শুরুতেই শোক প্রস্তাবের পর মূলতবি করা হয়। তবে সংসদ সচিবালয় থেকে বুধবারের কার্যসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রথম ৩০ মিনিট নির্ধারিত রাখা হয়েছে।

এছাড়া বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়-বিভাগের প্রশ্ন-জিজ্ঞাসা এবং উত্তর রয়েছে দিনের কার্যসূচিতে। একই সঙ্গে একাত্তর বিধিতে মনযোগ আকর্ষণের নোটিশ নিস্পত্তির বিষয়টিও রাখা হয়েছে। শোক প্রস্তাব গ্রহণের পর দিনের অন্যান্য কার্যসূচি মূলতবি রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংসদ সচিবালয়। তবে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হতে পারে।

চলতি সংসদের দুই সদস্য ৪ এপ্রিল আসলামুল হক ও ১৪ এপ্রিল আব্দুল মতিন খসরু মারা যান। বুধবারের বৈঠকে তাদের স্মরণে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে। গত ১১ মে বাজেট অধিবেশন আহ্বান করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

এবারের অধিবেশনেও কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি অনুরসণ করা হচ্ছে। সংক্ষিপ্ত ১২ কার্যদিবসের এই অধিবেশনে কয়েক দফায় বিরতি দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। এবারও অধিবেশনের আগে সংসদের কার্য উপদেষ্ট কমিটির বৈঠক হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় বাজেট প্রস্তাব ও অর্থ বিল উত্থাপন করা হবে। আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট হবে অর্থমন্ত্রী হিসেবে মুস্তফা কামালের তৃতীয় বাজেট এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ত্রয়োদশ বাজেট।

গত বাজেট অধিবেশনের মতো এবারও রোষ্টার করে সংসদ সদস্যরা বৈঠকে অংশ নেবেন। প্রতি কার্যদিবসে উপস্থিতি সংখ্যা ১০০ থেকে ১২০ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হবে। এক্ষেত্রে একজন সংসদ সদস্য ৩ থেকে ৪ কার্যদিবস অধিবেশনে যোগ দেওয়ার সুযোগ পাবেন। অধিবেশনে অংশ নিয়ে করোনা টেষ্টের নেগেটিভ রিপোর্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একবার করোনার টেষ্টের নেগেটিভ রিপোর্টে পরপর দুই দিন অধিবেশনে যোগ দেওয়া যাবে। ফলে সংসদে যোগদানের জন্য এমপিদের একাধিকবার নমুনা পরীক্ষার প্রয়োজন পড়বে।

সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে। একান্ত আবশ্যকীয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়া অন্য কাউকে সংসদ অধিবেশন চলাকালে ভবনে প্রবেশের সুযোগ পাবেন না। গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশও সীমিত করা হচ্ছে এ অধিবেশনে।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, সংসদে বাজেট পেশের দিনসহ দুই থেকে তিন দিন সীমিত সংখ্যক গণমাধ্যমকর্মীদের সংসদে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে তাদের প্রয়োজন হবে করোনার নেগেটিভ সনদ। এসব গণমাধ্যম কর্মীদের সংসদ ভবনের পরিবেশে সুযোগ দিলেও অধিবেশন চলাকালে গ্যালারিতে বসতে পারবেন না।

এদিকে সাধারণ সময় বাজেট পেশের দিনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতসহ আন্তর্জাতিক সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধির, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সংসদের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও এবারের বাজেট অধিবেশনে তা হচ্ছে না। অবশ্য করোনা সংক্রমন নিয়ে কারণে গত বছর বাজেট অধিবেশনের এসব ব্যক্তিবর্গদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

নতুন বছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের উপর মাত্র ৫দিন আলোচনা হবে। আলোচনায় নির্ধারিত সংখ্যক সরকার ও বিরোধী দলের সদস্য অংশ নেবেন। পুরো বাজেট পাসের প্রক্রিয়া হবে মাত্র ১০দিন। সেক্ষেত্রে ২০ থেকে ২৫ ঘণ্টা বাজেট আলোচনা হতে পারে। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত এই আলোচনা চলবে। অধিবেশনে বাজেট ছাড়াও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের সম্ভাবনা রয়েছে।

সংশ্নিষ্টরা জানান, সংসদে বাজেট পেশের আগে ওইদিন বেলা ১২টায় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে মন্ত্রিসভার বৈঠক হবে। ওই বৈঠকে অনুমোদনের পর অর্থ বিলে সই করবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এ কারণে রাষ্ট্রপতি সেদিন তার সংসদ ভবন কার্যালয়ে অবস্থান করবেন। রাষ্ট্রপতির আগমনসহ অধিবেশনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে সংসদ সচিবালয়। সংসদ ভবন, সদস্য ভবনসমূহ এবং সংসদ এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।