দেশে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কোভিড-১৯ জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।

মঙ্গলবার পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, কোভিড-১৯ সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, দেশের সার্বিক কোভিড-১৯ পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে; বিশেষ করে সীমান্তবর্তী (রাজশাহী বিভাগের চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, রাজশাহী, নওগাঁ এবং খুলনা বিভাগের সাতক্ষীরা, যশোর, খুলনা, বাগেরহাট) এলাকাতে সংক্রমণের উচ্চহার দেখা যাচ্ছে। এছাড়াও আরও কিছু জেলাতে উচ্চ সংক্রমণ পরিলক্ষিত হচ্ছে।

ইতোমধ্যে কমিউনিটি পর্যায়ে ভারতীয় ভ্যারিয়্যান্টের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছে পরামর্শক কমিটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাত্মক প্রচেষ্টার পরও বড় আকারে সংক্রমণ হলে চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য বড় রকমের চ্যালেঞ্জ হতে পারে। যেমনটি বিভিন্ন উন্নত দেশে দেখা গেছে। সাম্প্রতিককালে ভারত এই চ্যালেঞ্জ এর মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

কোভিড-১৯ জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি কিছু সুপারিশ করেছে সেগুলো হলো-

১. সারা দেশব্যাপী জারি করা সরকারি বিধি নিষেধ কঠোর ভাবে পালন করতে হবে। ক) সঠিকভাবে নাক-মুখ ঢেকে মাস্ক পরা খ) রেস্তোরাঁতে বসে খাওয়ার ব্যবস্থা বন্ধ করা (টেক-অ্যাওয়ে ব্যবস্থা চলতে পারে) গ) সকল প্রকার সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় জনসমাবেশ সম্পূর্ণরুপে নিষিদ্ধ করা ঘ) পর্যটন স্থান/ বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ রাখা

২. সংক্রমণের উচ্চহার বিবেচনায় সীমান্ত এলাকাসমূহ অধিক ঝুঁকিতে রয়েছে। ক) সীমান্তবর্তী জেলা ও উচ্চ সংক্রমিত এলাকায় অঞ্চল ভিত্তিক সম্পূর্ণ লকডাউন দেওয়া। খ) জরুরি সেবায় নিয়োজিত ছাড়া সকল জনগণের বাড়িতে থাকার আদেশ দেওয়া। গ) সীমান্তবর্তী জেলা সমূহে অবৈধ অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণরূপে বন্ধের জন্য কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা করা ও টহলের পরিমাণ বাড়ানো প্রয়োজন। ঘ) তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় কার্যক্রম গ্রহণে স্থানীয় প্রশাসনকে ক্ষমতার্পণ করা।

৩. সীমান্তবর্তী সকল জেলাসহ উচ্চ সংক্রমিত এলাকা থেকে আন্তঃজেলা গণপরিবহন বন্ধ করা প্রয়োজন।

৪. জেলা পর্যায়ে কোভিড-১৯ প্রতিরোধের বিধি নিষেধ পালনে স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে জনপ্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৫. প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিধি নিষেধ নিশ্চিত করণের উদ্দেশে কঠোর মনিটরিং জোরদার করা প্রয়োজন। এই বিষয়ে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে অন্তরায় দূরীকরণে আইন সংশোধন করা যেতে পারে ।

৬. সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ না আসা পর্যন্ত বিধি নিষেধের প্রয়োগ অব্যাহত রাখা এবং বিজ্ঞান ভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণ নিশ্চিত করা।

পরামর্শক কমিটি কোভিড-১৯ চিকিৎসা গাইডলাইনে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের চিকিৎসা অন্তর্ভূক্তকরণ, প্রয়োজনীয় ওষুধের মজুদ সংরক্ষণ এবং স্টেরয়েড এর যৌক্তিক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।

ভারতের ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে সংক্রমণের সাথে কোভিড-১৯ চিকিৎসায় ব্যবহৃত ইন্ডাস্ট্রিয়াল অক্সিজেন-এর সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে কমিটি ভবিষ্যতে এদেশেও ইন্ডাস্ট্রিয়াল অক্সিজেন ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে এজন্য এখনই তা প্রস্তুত রাখার কথা বলেছে।