আগের দিনের তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় সীমান্তবর্তী কয়েকটি জেলায় করোনা সংক্রমণের হার কিছুটা কমে এলেও বেড়েছে রাজশাহী, যশোর, সাতক্ষীরা, জয়পুরহাট, দিনাজপুর, নওগাঁ, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জে। তবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে শনাক্ত কিছুটা কমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহীতে ১৪২ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। আগের দিন এ সংখ্যা ছিল ১২৩। এ ছাড়া যশোরে ৫৬, সাতক্ষীরায় ৫০, জয়পুরহাটে ৫০, নওগাঁয় ২৩, সিরাজগঞ্জে ২২, বগুড়ায় ২০, নাটোরে ১৪ এবং পাবনায় ৯ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। আগের দিন নাটোরে শনাক্তের হার ছিল ৫১ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত কমে ৪৮ হয়েছে। পাবনায়ও শনাক্ত কিছুটা কমেছে। আগের দিন এ সংখ্যা ছিল ২৫ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত হয়ে ৯ জন মারা গেছেন। এদিকে সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকা সাতক্ষীরা জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। আগামীকাল শনিবার থেকে সাত দিনের সর্বাত্মক লকডাউন কার্যকর হবে। একই সঙ্গে আজ শুক্রবার থেকে খুলনা সদর, সোনাডাঙ্গা, খালিশপুর থানা এলাকা ও রূপসা উপজেলায় জরুরি সেবা ছাড়া সব ধরনের দোকানপাট ও শপিংমল বন্ধ রাখতে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন জেলা প্রশাসক। দিনাজপুরের মহেশপুর উপজেলা সীমান্তবর্তী বাওলী গ্রামে ইতোমধ্যে ছয়জন করোনা আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় গ্রামটি লকডাউন করে দিয়েছে প্রশাসন। এ ছাড়া এ উপজেলার সীমান্তবর্তী ছয় ইউনিয়নে চলাচলে ১৫ দিনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সমকালের ব্যুরো, অফিস ও সংশ্নিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯ জন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন চাঁপাইনবাবগঞ্জের, দু'জন রাজশাহীর, একজন নওগাঁর ও এক জন পাবনার। হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতিদিনই করোনা রোগী বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ২৯ রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ অবস্থায় মানুষ স্বাস্থ্যবিধি না মানলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।
গত চার দিন যশোরে গড় আক্রান্তের হার ২০ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৫৬ জন। এদিকে গতকাল দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান বলেন, জেলায় করোনা সংক্রমণ একটু বাড়লেও তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়। স্বাস্থ্যবিধি মানতে এবং জনসচেতনতায় আরও বেশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তারপরও পরিস্থিতি অনুকূলে না এলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন পিছপা হবে না।
জয়পুরহাট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গতকাল জরুরি সভায় সিভিল সার্জন ডা. ওয়াজেদ আলী জানান, বুধবার ১৬০ জনের রিপোর্ট এসেছে, তার মধ্যে ৫১ জনের পজিটিভ। আক্রান্তের হার বাড়ছে। মাস্ক ছাড়া চলাফেরা ও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলায় করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গতকাল সকাল থেকেই নাটোরে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পুলিশসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা রাজপথে অবস্থান করেন। শহরের বেশ কিছু গলিপথে চলাচল সীমিত করতে বাঁশ টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ বলেন, গত কয়েক দিনের তুলনায় সংক্রমণের হার কিছুটা কমার দিকে রয়েছে। তারপরও স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে অবস্থার পরিবর্তন না হলে আরও কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
নওগাঁর সিভিল সার্জন অফিসের কন্ট্রোল রুম থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ জন। সংক্রমণের হার ১৪ দশমিক ৭০। লকডাউনের প্রথম দিন গতকাল শহরের প্রধান বাজার এলাকার বাটার মোড়, রুবির মোড় ও গোস্তহাটির মোড় এলাকায় জরুরি পণ্য ছাড়া প্রায় সব দোকানই বন্ধ থাকতে দেখা গেছে। এসব এলাকার রাস্তাঘাট অন্য দিনগুলোতে সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত মানুষের সমাগম থাকলেও গতকাল ছিল জনশূন্য।
সাতক্ষীরায় করোনার ঊর্ধ্বগতি রোধে আগামীকাল থেকে এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভা শেষে জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল এ ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি বলেন, সাতক্ষীরার পরিস্থিতি দিন দিন অবনতি হচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী সাতক্ষীরা সদর, কালীগঞ্জ ও কলারোয়া উপজেলায় সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছেন। ঘরে ঘরে মানুষের জ্বর, সর্দিসহ করোনা উপসর্গ দেখা দিয়েছে।
সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আল মাহমুদ বলেন, কোনো মানুষ যাতে অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপার হতে না পারে, সে ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত ১০ জনকে আটক করে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
গতকাল দুপুরে দিনাজপুর জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভায় জেলা প্রশাসক মজিবর রহমান জানান, সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় মহেশপুর উপজেলা সীমান্তবর্তী বাওলী গ্রামে সাত দিনের লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা থেকে লকডাউন কার্যকর হবে। বাওলী গ্রামে ছয়জনের করোনা শনাক্ত হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ছাড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী ছয় ইউনিয়ন স্বরূপপুর, নেপা, কাজীরবেড়, শ্যামকুড়, বাঁবাড়িয়া ও যাদবপুরে চলাচলে ১৫ দিনের বিধিনিধেষ আরোপের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
পাশের জেলা নাটোরে করোনাভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় পাবনার চাটমোহর উপজেলার সীমান্তে কঠোর বিধিনিষেধ জারিসহ চেকপোস্ট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল সকালে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে ইউএনও সৈকত ইসলামের সভাপতিত্বে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নাটোর জেলার সীমান্তবর্তী চাটমোহর উপজেলার ছাইকোলা, হরিপুর, ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের প্রবেশপথ এবং সিরাজগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী হান্ডিয়াল ইউনিয়নের প্রবেশপথে চেকপোস্ট থাকবে।

বিষয় : সাতক্ষীরায় লকডাউন

মন্তব্য করুন