সম্ভবত সন্ধ্যায় ফোটে বলেই ফুলটির নামের সঙ্গে সন্ধ্যা জড়িয়ে এমন নামকরণ। দিনের কিছু বিশেষ মুহূর্তে ফোটার কারণে দেশে আরও কয়েকটি ফুলের এমন নামকরণ করা হয়েছে। তবে ফুলটির নামের শেষে মালতি থাকলেও প্রকৃত মালতি ফুলের সঙ্গে এর কোনো সাদৃশ্য নেই। 

মালতি মূলত লতানো উদ্ভিদ। সাদা রঙের পাঁচটি মোড়ানো পাপড়ির ফুলগুলো ফোটে বর্ষায়। আর সন্ধ্যামালতি ফোটে প্রায় সারাবছর। তা ছাড়া রং এবং গড়নেও এ ফুলের অনেক রকমফের চোখে পড়ে। আমাদের সব ধরনের বাগান এবং ঘরের আঙিনায় সন্ধ্যামালতি চোখে পড়ে। কোনো কোনো বাগানে বড় আকৃতির বেড তৈরি করে তাতে বর্ণবৈচিত্র্য তৈরি করতেও দেখা যায়। অবশ্য এক্ষেত্রে উন্মুক্ত জায়গা প্রয়োজন। পর্যাপ্ত আলো-বাতাস না পেলে ফুলের বর্ণাঢ্যতা আসে না। তবে দিনের আলোয় এ ফুলের পাপড়িগুলো ঘুমিয়ে পড়ে। সন্ধ্যামালতি কোথাও কোথাও সন্ধ্যামণি বা কৃষ্ণকলি নামেও পরিচিত। জন্মস্থান দক্ষিণ আমেরিকা হলেও এখন আমাদের প্রকৃতির সঙ্গে মিশে গেছে।

গাছ সাধারণত ৬০ থেকে ৯০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। মাটির সমান্তরালে অনেকগুলো ডালপালা ছড়িয়ে বেশ ঝোপালো হয়ে ওঠে। পাতার গড়ন পানপাতার মতো, আগা চোখা। ফুল নানান রঙের- লাল, সাদা, হলুদ, বেগুনি কিংবা দাগফুটকি ভরাও হতে পারে। সুগন্ধি ফুলগুলো দেখতে অনেকটা ফানেল বা মাইকের মতো। এদের বীজ ছোট, গোলমরিচের মতো।

বসন্তকাল সন্ধ্যামালতি (Mirabilis jalapa) চাষের উপযুক্ত সময়। বীজ শুকিয়ে আপনাআপনিই ঝরে পড়ে এবং বাগানে ছড়িয়ে যায়। বীজ রোপণের আগে ভিজিয়ে রাখার খুব একটা প্রয়োজন নেই। রোদ ও আংশিক ছায়াযুক্ত স্থান এ গাছের জন্য উপযুক্ত। সাধারণত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে মে মাস পর্যন্ত বীজ বপন করার উপযুক্ত সময়। 

সন্ধ্যামালতি ফুল সাধারণত খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে রঞ্জক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিশেষত, কেক ও জেলি রং করতে ফুলের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। এর পাতা প্রদাহ কমাতে এবং ক্বাথ ফোঁড়া চিকিৎসায় কার্যকর। এ ছাড়া পাতার রস ক্ষতের চিকিৎসায়ও কাজে লাগে। 

বীজের চূর্ণ প্রসাধনী এবং রঞ্জক শিল্পে ব্যবহৃত হয়। তবে বীজ বিষাক্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। ব্রাজিলের কায়াপো সম্প্রদায় এবং ভারতীয়রা মাথাব্যথা নিরাময়ে ও ক্ষত ধুতে শুকনো ফুলের গুঁড়ো ব্যবহার করে। পেরুতে ফুল থেকে উত্তোলিত রস হার্পিসের ক্ষত এবং কানের জন্য ব্যবহৃত হয়। মূল থেকে নেওয়া নির্যাস কানের ব্যথা, ডায়রিয়া, আমাশয়, সিফিলিস এবং লিভারের সংক্রমণের মহৌষধ হিসেবে কার্যকর।