পুলিশের উপ-পরিদর্শক আকরাম হত্যায় সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তদন্ত শুরু করেছে ঝিনাইদহ পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। 

চাঞ্চল্যকর মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার স্বামী বাবুল আক্তারকে গ্রেপ্তারের পর নড়েচড়ে বসে এসআই আকরামের পরিবার। 

আকরামের পরিবারের অভিযোগ, সাবেক এসপি বাবুলের সঙ্গে আকরামের স্ত্রী বহ্নির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সে কারণে আকরামকে হত্যার পরিকল্পনা করে বাবুল ও বহ্নি। 

পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক তৌহিদুর রহমান সমকালকে জানান, সম্প্রতি এসআই আকরামের পরিবারের পক্ষ ঝিনাইদহ পিবিআইতে এসআই আকরাম হত্যার অভিযোগটি পুনঃতদন্তের আবেদন করে। পরে পিবিআই আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করেছে।

এ ঘটনায় ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের শৈলকুপার বরদা নামক যে স্থানে আকরাম মোটরসাইকেলসহ আহতাবস্থায় পড়েছিল সে স্থানটি তারা পরিদর্শন করেছেন পিবিআই সদস্যরা। 

আহত আকরামকে উদ্ধার করে যারা হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং যারা তার মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে বাড়িতে রেখেছিলেন এমন ১৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পিবিআই।

এছাড়া আকরামের স্ত্রী বনানী বিনতে বশির ওরফে বহ্নি ও শৈলকুপা থানার সাবেক ওসি হাসেম খানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানান তদন্তকারী কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান।

পরিবারের অভিযোগের সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর স্ত্রীর পরামর্শে যমুনা সেতু হয়ে ঝিনাইদহে ফিরছিলেন এসআই আকরাম। ঐদিন রাতে ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের শৈলকুপার বরদা নামক স্থানে অচেতন হয়ে পড়ে ছিলেন তিনি। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, এটি ‘সড়ক দুর্ঘটনা’।

এরপর গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৫ সালের ১৩ জানুয়ারি মারা যান আকরাম। 

আকরামের স্ত্রীর আবেদনে ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ বুঝে নেওয়ার পর ঝিনাইদহ শহরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। আকরাম ঝিনাইদহ শহরের হামদহ পূর্বপাড়ার আবুল হোসেন মাষ্টারের ছেলে।



বিষয় : এসআই আকরাম এসপি বাবুল আক্তার পিবিআই ঝিনাইদহ

মন্তব্য করুন