জেসমিন আক্তারের ছয় বছরের শিশুসন্তান লিজাকে থাপ্পড় মেরেছিলেন নিকিতা আক্তার (৪২)। এর প্রতিশোধ নিতেই ফুপু নিকিতাকে বঁটি দিয়ে কুপিয়ে ও শিল দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে জেসমিন। হত্যার দায় স্বীকার করে সে  শুক্রবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। শিশুসন্তানসহ জেসমিনকে কারাগারে পাঠানো হয়।

বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর গুলশানের কালাচাঁদপুরের বাসা থেকে নিকিতার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। হত্যায় জড়িত সন্দেহে জেসমিনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে ফুপুকে হত্যার কথা স্বীকার করে।

গুলশান থানার ওসি আবুল হাসান সমকালকে বলেন, জেসমিন একাই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেছে। তার বিরুদ্ধে নিকিতার ভাই আজাদ হোসেন বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে গতকাল আদালতে হাজির করা হলে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

এজাহারে বলা হয়েছে, কালাচাঁদপুরের টিনশেডের ভাড়া বাসায় গত ঈদুল ফিতরের পর থেকে একাই বাস করতেন নিকিতা আক্তার। তার স্বামী হৃদয় হাসান মুরাদ শেরপুরের বাগলগড়ে গ্রামের বাড়িতে ছিলেন। গত ৫ জুন নিকিতার ভাইয়ের মেয়ে জেসমিন আক্তার দুই সন্তানসহ ফুপুর বাসায় বেড়াতে আসে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার পর থেকে নিকিতাকে ভাই আজাদ হোসেন একাধিকবার ফোন করেন। কিন্তু ফোন রিসিভ না করায় আজাদ হোসেন নিকিতার বাসায় গিয়ে কলিংবেল চাপেন। সাড়া না পেয়ে জেসমিনকে ফোন করেন তিনি। এ সময় আজাদকে অশ্নীল ভাষায় গালাগাল করে জেসমিন। নিকিতাকে হত্যা করা হয়েছে জানিয়ে সে বলে, লাশ রেখে সে বাসা থেকে বের হয়ে গেছে।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে জেসমিনের বড় মেয়ে সুমনা বাসার মেঝেতে পানি ফেলে দেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে নিকিতা শিশুটিকে থাপ্পড় মারেন। এ নিয়ে জেসমিনের সঙ্গে নিকিতার কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জেসমিন শিল দিয়ে নিকিতার মাথার পেছনে আঘাত করে। মেঝেতে পড়ে গেলে বঁটি দিয়ে নিকিতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

মামলার বাদী ও নিহতের ভাই আজাদ হোসেন বলেন, তার বোনের প্রথম বিয়ে বিচ্ছেদের পর মুরাদের সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়ে হয়। পারিবারিক কাজে মুরাদ গ্রামের বাড়িতে আছেন কিছুদিন ধরে। জেসমিন বেড়াতে এসে তুচ্ছ ঘটনায় হত্যাকাণ্ড ঘটাল।



মন্তব্য করুন