সিলেট জেলা সংগ্রাম পরিষদ ও বাসদ নেতা আবু জাফর, প্রণব জ্যোতি পাল, জোবায়ের চৌধুরী সুমনসহ ৩০০ জন নেতাকর্মীর নামে দায়েরকৃত ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে রিকশা, ব্যাটারি রিকশা, ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদ।

এছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নতুন রিকশা, ভ্যান ও ঠেলাগাড়ির লাইসেন্স প্রদানে সময়ক্ষেপণ ও হয়রানি বন্ধ করে দ্রুত লাইসেন্স প্রদানের দাবিও জানিয়েছে তারা। 

শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে রিকশা, ব্যাটারি রিকশা, ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করে। 

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের আহ্বায়ক খালেকুজ্জামান লিপন। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি রতন মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুখ হোসেনসহ আরও অনেকে।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, সারা দেশে গ্রাম থেকে নগর-মহানগরে প্রায় ৫০ লাখ রিকশা, ব্যাটারি রিকশা ও ইজিবাইক চালক জনগণকে সেবা প্রদান করে আসছে। কিন্তু ব্যাটারি রিকশা ও ইজিবাইকের চলাচলে অনুমতি নেই বলে তা চলতে বিভিন্ন জায়গায় বাধা দেওয়া হচ্ছে, রিকশা কিংবা ব্যাটারি আটক করা হচ্ছে। ব্যাটারি বিক্রি বৈধ, ইজিবাইক বিক্রি বৈধ কিন্তু তা রাস্তায় চললে অবৈধ তা মেনে নেওয়া যায় না।

সংগ্রাম পরিষদ নকশা আধুনিকায়ন ও নীতিমালা প্রনয়ন করে ব্যাটারি রিকশা ও ইজিবাইক এর লাইসেন্স প্রদান, সড়ক-মহাসড়কে স্বল্পগতির গাড়ীর জন্য সার্ভিস রোড/বাইরোড নির্মাণ, বিকল্প ব্যবস্থা করা ছাড়া রিকশা, ব্যাটারি রিকশা উচ্ছেদ বন্ধসহ ৩ দফা দাবিতে গত ৭ বছর আন্দোলন করছে রিকশা, ভ্যান সংগ্রাম পরিষদ। গত ১৫ মার্চ সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে তারা।

সমাবেশে নেতারা অভিযোগ করেন, তিন দফার দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে সিলেট জেলা সংগ্রাম পরিষদ ও বাসদ নেতা আবু জাফর, প্রণব জ্যোতি পাল, জোবায়ের চৌধুরী সুমনসহ ৩০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সিলেট সিটি করপোরেশন ‘মিথ্যা মামলা’ দিয়ে হয়রানি করছে।

সমিতির নেতারা জানান, ঢাকা মহানগরে প্রায় ১২ লাখ রিকশা-ভ্যান চলাচল করলেও লাইসেন্স আছে মাত্র ৮৭ হাজার। নতুন লাইসেন্স দেয়া বন্ধ রয়েছে গত প্রায় ৩০ বছর।

তারা বলেন, নতুন লাইসেন্স দেওয়ার দাবিতে বিভিন্ন সময় দাবি জানানো হলেও তা নিয়ে গড়িমসি করছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। আন্দোলনের মুখে গত বছর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নতুন লাইসেন্স দেওয়ার জন্য প্রক্রিয়া শুরু করে।

লাইসেন্স প্রতি ১১০০ টাকা ও আবেদন ফরম প্রতি ১০০ টাকা হিসেবে মোট ১২০০ টাকা একটি রিকশার জন্য নেওয়া হয়েছে ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে।ইতোমধ্যে প্রায় ৩ লাখ আবেদন জমা পড়েছে। 

সমাবেশে নেতারা অভিযোগ করেন, টাকা জমা দেওয়ার ৬-৭ মাস অতিবাহিত হলেও নতুন লাইসেন্স প্রদান নিয়ে সিটি করপোরেশন সময়ক্ষেপণ ও হয়রানি করছে, যার ফলে প্রায় ৩ লাখ রিকশা চালকের জীবন-জীবিকা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি



বিষয় : রিকশা ব্যাটারি রিকশা

মন্তব্য করুন