করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়ে যাওয়ায় দিনাজপুর সদর উপজেলায় ৭ দিনের জন্য লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ জুন) সকাল ৬টা থেকে লকডাউন শুরু হবে। 

রোববার রাতে দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে করোনা প্রতিরোধ কমিটির জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে ৭ দিনের জন্য পৌরসভাসহ সদর উপজেলায় কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করবে না। বন্ধ থাকবে সব ধরনের দোকানপাট। শুধুমাত্র কাঁচাবাজার ও মুদি দোকান সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। লকডাউনের বিধিনিষেধের বাইরে থাকবে ওষুধের দোকান। এছাড়া শহরে শুধুমাত্র অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবার যানবাহন চলাচল করবে।  

বৈঠকে দিনাজপুর করোনা প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক ও জেলা প্রশাসক খালেদ মোহাম্মদ জাকীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম, কমিটির সদস্য সচিব ও সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল কুদ্দুছ, জেলা বিএমএ সাধারণ সম্পাদক ডা. বিকে বোস প্রমুখ। 

এর আগে বিকেলে প্রতিবেদন আসে, গত ৪৮ ঘণ্টায় দিনাজপুরে করোনায় ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলারই ৩ জন। এছাড়া গত কয়েকদিন ধরে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাচ্ছিল। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে দিনাজপুর সদর উপজেলায়। 

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য বলছে, আক্রান্ত ও মৃত্যুহারে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে দিনাজপুর সদর উপজেলা। এখন পর্যন্ত জেলার ১৩টি উপজেলায় যে পরিমাণ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তার অর্ধেকেরও বেশি সদর উপজেলায়। জেলায় এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ২৭১ জন। শুধুমাত্র সদরে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৫৭৬ জন যা শতকরায় ৫৭.০৩ শতাংশ। এছাড়া জেলার ১৩টি উপজেলায় এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন ১৪৩ জন যার মধ্যে সদর উপজেলারই ৭০ জন। যা শতকরা হিসেবে শুধুমাত্র সদর উপজেলাতেই ৪৮.৯৫ শতাংশ। 

গত ২৪ ঘন্টায় দিনাজপুরে ১৪০টি নমুনা পরীক্ষা করে করোনায় আক্রান্ত পাওয়া গেছে ৪৫ জনের। শনাক্তের হার ৩২ দশমিক ১৪ শতাংশ। 

বর্তমানে দিনাজপুরে করোনা রোগীর সংখ্যা ৪৮৩ জন। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৭৮ জন। ভর্তি যারা রয়েছেন তাদের মধ্যে ৩৬ জন করোনা পজেটিভ, বাকী ৪২ জন উপসর্গযুক্ত সন্দেহভাজন রোগী। এ নিয়ে দিনাজপুরে করোনা শনাক্ত হলো ৬ হাজার ২৭১ জনের, আর মৃত্যুবরণ করেন ১৪৩ জন। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১৬ জন। 



বিষয় : করোনাভাইরাস দিনাজপুর লকডাউন

মন্তব্য করুন