ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ধর্ষণ ও ধর্ষণের সহযোগিতার অভিযোগের মামলায় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হাসান সোহাগ ও সাবেক আহ্বায়ক হাসান আল মামুনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ।

এ ছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরসহ চারজনকে অব্যাহতির আবেদন করা হয়। 

রাজধানীর কোতোয়ালী থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর মো. ওয়াহিদুজ্জামান এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, গত ৮ জুন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। সোহাগের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও মামুনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে অব্যাহতি দেয়া অপর আসামিরা হলেন- বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, সহ-সভাপতি নাজমুল হুদা এবং ঢাবি শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ হিল বাকি।

২০২০ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থী ধর্ষণ ও ধর্ষণের সহযোগিতার অভিযোগে ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর লালবাগ থানায় মামলা করেন।

পরদিন ধর্ষণ ও সামাজিক যোগাযোগে মাধ্যমে চরিত্রহননের অভিযোগে কোতোয়ালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আরেকটি মামলা করেন তিনি। এই মামলায়ও ওই ছয়জনকে আসামি করা হয়। তবে প্রধান আসামি করা হয় নাজমুল হাসান সোহাগকে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনের সঙ্গে বাদীর পরিচয় হয় এবং তার সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে আসামি মামুন বাদীকে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেন। ফলে ২০২০ সালের ৩ জানুয়ারি দুপুরে বাদীকে আসামি হাসান আল মামুন তার বাসা লালবাগে যেতে বলেন। সেখানে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ ঘটনার পরদিন বাদী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ১২ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসামি নাজমুল হাসান সোহাগের মাধ্যমে ভর্তি হন। এরপর থেকে আসামি মামুন আত্মগোপনে চলে যায়।