রাজধানীর পল্লবী থানায় মাদকের মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত শাহাবুদ্দিন বিহারির পরিবর্তে নিরপরাধ মো. আরমানের কারাভোগের ঘটনায় পুলিশের সাত সদস্যের দায় পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তারা হলেন পল্লবী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. দাদন ফকির, সাবেক এএসআই খান ইমদাদুল হক, সাবেক এসআই মো. রাসেল, সাবেক এএসআই হযরত আলী, সাবেক এসআই মনিয়ারা আক্তার, পুলিশ পরিদর্শক মো. নজরুল ইসলাম ও পুলিশ পরিদর্শক মো. সিরাজুল ইসলাম খান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সাত পুলিশ কর্মকর্তা তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যে অবহেলা করেছেন।

বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চে সোমবার পিবিআই তাদের এ প্রতিবেদন দাখিল করে। পরে এই তথ্য সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন এ-সংক্রান্ত রিটকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব। 

২০১৯ সালের ১৮ এপ্রিল একটি জাতীয় দৈনিকে 'কারাগারে আরেক জাহালম' শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, পল্লবীর বেনারসি কারিগর আরমান নির্দোষ হয়েও ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে তিন বছর ধরে কারাভোগ করছেন। রাজধানীর পল্লবী থানার একটি মাদক মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি মাদক কারবারি শাহাবুদ্দিন বিহারি এ মামলার প্রকৃত আসামি। কিন্তু তার পরিচয়ে, তার পরিবর্তে সাজাভোগ করছেন আরমান।

পরে ওই প্রতিবেদন সংযুক্ত করে হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করা হয়। রিটে আরমানকে আদালতে হাজির করার নির্দেশনা ও মুক্তি চাওয়া হয়। ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশনের পক্ষে হুমায়ুন কবির পল্লব রিট করেন। ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর আরমানকে মুক্তির নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি তাকে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে পুলিশ মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া আরমানকে আসামি করার ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঘটনার পেছনের সত্যতা তুলে ধরতে পিবিআইকে অনুসন্ধান করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।


বিষয় : হাইকোর্ট পিবিআই

মন্তব্য করুন