হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির প্রয়াত আল্লামা শাহ আহমদ শফীর জীবন ও কর্ম নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। জুনায়েদ বাবুনগরী বিরোধীরা এ সভার আয়োজক। সভা নিয়ে নানা জল্পনা থাকলেও পাল্টা কমিটি গঠনের মতো পদক্ষেপে যাচ্ছেন না তারা।

আয়োজকদের একজন মাওলানা আলতাফ হোসাইন সমকালকে বলেছেন, শুধুই আলোচনা সভা হবে। কমিটি গঠনের মতো কোনো বিষয় নেই। কারা থাকছেন আলোচনা সভায়- এ প্রশ্নে তিনি বলেছেন, দেশের সব শীর্ষস্থানীয় আলেমদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে দেখা যাক কারা কারা আসেন।

কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতের নেতৃত্ব নিয়ে টানাপোড়েন চলছে আহমদ শফীর জীবদ্দশা থেকে। তিনি মৃত্যুর একদিন আগে আন্দোলনের মুখে হেফাজতের কেন্দ্র হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালকের পদ ছাড়েন। মাদ্রাসা থেকে আজীবনের জন্য বহিস্কার করেন ছেলে আনাস মাদানী ও তার সমর্থক দুই শিক্ষককে।

আহমদ শফীর মৃত্যুর পর জুনায়েদ বাবুনগরী মাদ্রাসার নিয়ন্ত্রক হন। গত নভেম্বরে বিশেষ সম্মেলনে হেফাজতেরও আমির হন। আনাসা মাদানী ও তার সমর্থকদের বাদ দেওয়া হয় কমিটি থেকে। যারা নিজেদের আহমদ শফীর অনুসারী বলে দাবি করেন। তারা আহমদ শফীর মৃত্যুর জন্য বাবুনগরীকে দায়ী করে মামলা করেছেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভিস্টিগেশন (পিবিআই) বাবুনগরীসহ ৪৩ জনকে দায়ী করে আদালতে প্রতিবেদন দিয়েছে। আলতাফ হোসেন সমকালকে বলেছেন, জুনায়েদ বাবুনগরী এবং তার সমর্থক হেফাজত নেতাদের বৃহস্পতিবারের সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে অতিথি করার প্রতিবাদে গত মার্চে রাস্তায় নামে হেফাজত। স্বাধীনতা দিবসে সহিংসতার পর বিক্ষোভ ও হরতালের ডাক দেয় সংগঠনটি। এসব কর্মসূচিতে সরকারি হিসেবে ১৭ জনের মৃত্যু হয়। হেফাজতের অর্ধ শতাধিক কেন্দ্রীয় নেতাসহ বহু কর্মী সমর্থক সহিংসতা তান্ডবের মামলায় গ্রেফতার হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গত ২৫ এপ্রিল ২০১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত করে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়। ৭ জুন জুনায়েদ বাবুনগরীকে আমির এবং আল্লামা নুরুল ইসলাম জিহাদীকে মহাসচিব করে ৩৩ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হয়েছে।

নতুন কমিটিতে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের প্রায় সবাইকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সহিংসতার অভিযোগে কারাগারে যাওয়া নানা কেলেঙ্কারিতে বিতর্কিত নেতা মামুনুল হকসহ কাউকে কমিটিতে রাখা হয়নি। আহমদ শফীর বড় ছেলে মাওলানা ইউসুফ মাদানীকে সহকারী মহাসচিব পদ দেওয়া হলেও আনাস মাদানী ও তার কোনো সমর্থককে কমিটিতে নেওয়া হয়নি। এ কমিটি প্রত্যাখান করে পাল্টা কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন তারা। কমিটি ঘোষণার সপ্তাহখানেক আগে থেকে তারা এ হুঁশিয়ারি দিচ্ছিলেন।

তবে কমিটি গঠনের পর আনাস মাদানী ও তার সমর্থকদের আগের মতো কঠোর অবস্থানে দেখা যায়নি। 

এসব বিষয়ে জানতে হেফাজতের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মাইনুদ্দিন রুহি বিস্তারিত বলেননি। পাল্টা কমিটি গঠনের হুঁশিয়ারির বাস্তবায়ন হচ্ছে না তা তার কথাতেই স্পষ্ট হয়। তিনি বলেছেন, আলোচনা সভা হবে। এসে দেখুন আর কী কী হয়।

বিষয় : হেফাজতে ইসলাম

মন্তব্য করুন