মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার গৃহহীনদের ঘর নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। এ ছাড়া দরিদ্র গৃহহীনদের কাছ থেকে নেওয়া পরিবহন ও মিস্ত্রি খরচের ৫৭ লাখ ৪০ হাজার টাকাও ফেরত দিয়েছেন ইউএনও।

সুনামগঞ্জের শাল্লার ১৪৩৫ গৃহহীন পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। ইট না দিয়ে যেনতেনভাবে বালু-সিমেন্টের মিশ্রণ দিয়ে ঘরগুলোর মেঝে করে দেওয়া, নিম্নমানের ইট, বালু, পাথর ব্যবহার, নির্মাণের মালপত্র পরিবহনের টাকা গৃহহীনদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া, মিস্ত্রির টাকা দিতে বাধ্য করাসহ নানাভাবে অসহায় মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সমকালে এ নিয়ে সংবাদও প্রকাশিত হয়।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে ফেব্রুয়ারিতে জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও ম্যাজিস্ট্রেটকে সঙ্গে নিয়ে কয়েক দফা শাল্লায় তদন্তে যান। সে সময়ই গৃহ নির্মাণের দায়িত্বে থাকা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মামুনুর রহমানকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়।

তদন্ত শেষে জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন যেসব ঘরে ইট সলিং না করে মেঝে পাকা করা হয়েছে, সেগুলোতে ইট সলিং করে মেঝে পাকা করার নির্দেশ দেন। সেই সঙ্গে পরিবহন এবং মিস্ত্রি খরচের টাকা দরিদ্রদের ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন। জেলা প্রশাসকের নির্দেশ অনুযায়ী শাল্লার অনিয়ম হওয়া ঘরগুলোতে এখন আবার কাজ চলছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য এলাছ মিয়া বলেন, ' ইউএনও সাহেবসহ কর্মকর্তারা যেভাবে বলছেন, নারকিলা ও আশপাশের গ্রামের ১৯ গৃহহীনের ঘরে সেভাবে কাজ করে দিচ্ছি। স্যারদের কথামতোই কাজ করছি।'

শালা ইউএনও আল মুক্তাদীর হোসেন বললেন, 'অন্যান্য উপজেলা এবং শাল্লার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। অন্য উপজেলায় ঠিকাদাররা ঘর নির্মাণ করেছে। এ উপজেলা প্রত্যন্ত হওয়ায় এখানে বেশিরভাগ ঘর উপকারভোগীরা করেছে। পরিবহনের বরাদ্দ শুরুতে আসেনি, এজন্য দিতে পারিনি। এখন এসেছে, ১৪৩৫ ঘরের প্রত্যেককেই চার হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ৫৭ লাখ ৪০ হাজার টাকাই গৃহহীনদের দিয়ে দিয়েছি আমরা।'

জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, আমি যোগদানের পরই শাল্লায় গৃহ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। আমি গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে প্রথম পরিচয় সভায় বলেছিলাম মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া দরিদ্র মানুষজনের উপহারে একটি টাকার অনিয়মও সহ্য করা হবে না। শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ৫৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরত দিতে বাধ্য করা হয়েছে। তাকে ৭ জুন শোকজ করা হয়েছে। শোকজের জবাব পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসক জানান, প্রথম দফার দেওয়া ৩৯০৮টি ঘরের মধ্যে ৩৫০০ ঘরের কাজ শেষ। বেশিরভাগ ঘরেই উঠেছেন গৃহহীনরা। দ্বিতীয় দফায় আগামী ২০ জুন ২০৯টি ঘরের চাবি তুলে দেওয়া হবে গৃহহীনদের হাতে। এটি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।