নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভেতরে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মোহাম্মদ হৃদয় (২৫) নামে এক তরুণকে হত্যা করা হয়েছে। 

রোববার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে যে কোনো সময় হাজীগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভেতরে হত্যাকাণ্ডের ওই ঘটনা ঘটে। নিহত হৃদয় ফতুল্লার হাজীগঞ্জ উচাবাড়ি এলাকার খোকন মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একজন ইলেকট্রিক মিস্ত্রি। স্থানীয় মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীরা হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে বলে পুলিশ ও এলাকাবাসী প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে। খোকন-সালমা দম্পতির চার ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে নিহত হৃদয় দ্বিতীয় সন্তান। পুলিশ লাশের পাশ থেকে ছোট একটি ছোরা উদ্ধার করেছে।

করোনা সংক্রমণের পর গত বছরের ১৬ মার্চ সরকারি নির্দেশে সারাদেশের মতো হাজীগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও বন্ধ ছিল। খবর পেয়ে ফতুল্লা থানার ওসি রকিবুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। স্কুলের আধা পাকা পরিত্যক্ত একটি কক্ষে মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

নিহতের বড় ভাই রনি ও ছোট ভাই আবির বলেন, মাদকসেবী বন্ধু মাহাবুব, রাহাত, সেকান্দার, মাঝি, জামাই পারভেজের সঙ্গে চলাফেরা করায় তাদের ভাইটিও মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। শনিবার রাত ১২টার দিকে বের হয়ে আর ফেরেনি। রোববার দুপুরে জানতে পান ভাই খুন হয়েছে। স্কুল মাঠে জমে থাকা পানিতে ভাইয়ের নিথর দেহ পড়ে ছিল। নিহতের মা সালমা বেগম বলেন, 'বার বার ছেলেটারে নিষেধ করেছিলাম মাদকসেবীদের সঙ্গে না চলতে। শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন দিয়ে খেসারত দিল।'

সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, পুরো স্কুলটি চারপাশে দেয়াল দিয়ে ঘেরা থাকলেও পেছনের একটি দেয়াল কিছুটা নিচু। এই নিচু দেয়াল টপকেই ভেতরে প্রবেশ করত মাদকসেবীরা। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার সকাল ৯টা থেকে ১০টার দিকে একটি দোকানের সামনে হৃদয়কে দেখেছেন অনেকেই। দুপুর ১২টার দিকে স্কুলের মাঠে হৃদয়ের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি রকিবুজ্জামান বলেন, লাশের মাথায় রক্ত লেগে ছিল। দেহের অন্যান্য স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাশ উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ দেড়শ শয্যা জেনারেল হাসাপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বিষয় : স্কুলের মাঠ তরুণের লাশ ফতুল্লা

মন্তব্য করুন