চট্টগ্রামের মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার আসামি সাইদুল ইসলাম সিকদার সাকুকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার কাজী শাহাবুদ্দিন আহমেদ সমকালকে জানান, ৩ দিনের রিমান্ড শেষে আসামি সাইদুল ইসলাম সিকদার সাকুকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করেছিল পিবিআই। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মিতু মামলার অন্যতম আসামি পলাতক কামরুল সিকদার মুছার বড় ভাই সাইদুল ইসলাম সিকদার সাকু।
পিবিআই জানিয়েছে, মিতু হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামি ও পুলিশের সোর্স কামরুল ইসলাম সিকদার ওরফে মুছার ভাই সাকু খুনিদের মোটরসাইকেল সরবরাহ করেছিলেন। তাকে রাগুনিয়ার রানীরহাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব -৭। মিতুর বাবা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেনের দায়ের করা হত্যা মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছিল।
২০১৬ সালের ৫ জুন ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে গিয়ে চট্টগ্রাম নগরের জিইসি মোড়ের কাছে নির্মমভাবে খুন হন মিতু। মোটরসাইকেলে আসা তিন দুর্বৃত্ত সন্তানের সামনে তাকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর পুলিশের পক্ষ থেকে ধারণা করা হয়েছিল, জঙ্গিবিরোধী অপারেশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় উগ্রপন্থিরা বাবুলের স্ত্রীকে হত্যা করেছে।
হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলাটি সাড়ে তিন বছর তদন্ত করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। একাধিক আসামিকে গ্রেপ্তার করলেও বাবুলের ব্যাপারে চুপচাপ ছিলেন তদন্তকারীরা।
মিতু হত্যার ২১ দিন পর ২৬ জুন গ্রেপ্তার করা হয় ওয়াসিম ও আনোয়ারকে। আদালতে জবানবন্দি দেয় তারা। তারা জানায়, কামরুল শিকদার ওরফে মুছার নেতৃত্বে ওয়াসিম, আনোয়ার, মো. রাশেদ, নবী, মো. শাহজাহান ও মো. কালু হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়।
একই বছরের ৪ জুলাই রাঙ্গুনিয়ায় পুলিশের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হয় নবী ও রাশেদ। কারাগারে নেওয়া হয় ওয়াসিম, আনোয়ার ও শাহজাহানকে। পলাতক মুছাকে ধরিয়ে দিতে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে পুলিশ।
২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালতের নির্দেশে মিতু হত্যা মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। তদন্তে বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততা বেরিয়ে এলে গত ১২ মে তার মামলাটিতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় তারা। এর আগে গত ১১ মে মিতু হত্যা মামলার বাদী বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চট্টগ্রাম পিবিআইতে ডাকা হয়। এরপর তাকে হেফাজতে নিয়ে পরদিন মিতুর বাবার করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পিবিআই।
ওই দিন আদালতে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে পাঁচদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে গত ১৭ মে আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্ত্রী হত্যায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে অস্বীকার করেন। শুরুতে রাজি হলেও তিন ঘণ্টা বিচারকের খাস কামরায় বসে থেকে বেঁকে বসেন তিনি। ওই দিন আদালত তাকে কারাগারে পাঠানো নির্দেশ দেন।বাবুল আক্তার এখন ফেনী কারাগারে বন্দি।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের আলোচিত মাহমুদা খানম মিতুকে হত্যা করার পরিকল্পনা করা হয় ঘটনা সংঘটিত হওয়ার তিন মাস আগেই। বাবুল আক্তার পরিকল্পনা সাজিয়ে তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেন পুলিশের সোর্স কামরুল ইসলাম সিকদার ওরফে মুছাকে। মুছা প্রথমে রাজি না হলে তাকে চট্টগ্রাম ছাড়া করার হুমকিও দেন বাবুল। মুছা মিতুকে খুন না করে তালাক দেওয়ার প্রস্তাব দিলে আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বাবুল। চাপে পড়েই মুছা তার 'অপারেশন দল' নিয়ে মিতুকে খুন করেন।