করোনা পরিস্থিতিতে মাদারীপুরে শুরু হয়েছে ‘বিশেষ লকডাউন'। মঙ্গলবার শুরু হওয়া এই লকডাউনে শুধুমাত্র জরুরি সেবার যানবাহন নিয়ে বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল করার কথা। অথচ সব ধরনের যানবাহনের পাশাপশি এদিন ফেরিতে দেখা গেছে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়।

ফেরিঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে জনসাধারণের মধ্যে লকডাউন মানার তেমন কোন আগ্রহ দেখা যায়নি।  লঞ্চ ও স্পীডবোট বন্ধ থাকায় রাজধানীমুখী সব যাত্রীর চাপ পড়েছে ফেরিতে। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি থাকলেও জনসমগম রোধের চেষ্টা ব্যর্থ করে জনগণ নানা অজুহাতে চলাফেরা করছে শহর-গ্রামে।

সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ২২ জুন থেকে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এ অবস্থায় সকাল থেকে গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও  ইজিবাইক, রিক্সা ও পণ্যবাহী ট্রাকের সাথে অন্যান্য ট্রাক চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসনের বাধা উপেক্ষা করে নানা অজুহাতে চলছে জনসাধারণ।

মঙ্গলবার দেখা গেছে, মাদারীপুরের সবকটি উপজেলার চিত্র একই রকম প্রায়। তবে বাংলা বাজার -শিমুলিয়া ফেরী ঘাটে রাজধানীমুখী যাত্রীদের ভীড় একটু বেশিই। গাদাগাদি ও প্রতিযোগিতা করে যাত্রীরা উঠছে ফেরিতে। সব বাধা উপেক্ষা করে রাজধানীমুখী মানুষের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে ঘাট কতৃপক্ষ ও প্রশাসন।

বাংলাবাজার ঘাটের ম্যানেজার সালাহ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ঘাটে রাজধানী মুখী যাত্রীর চাপ পড়েছে ফেরিতে। আমরা চেষ্টা করছি ঘাট লকডাইনের নিয়ম মত চালাতে।

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন বলেন, মন্ত্রিপরিষদের নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৬টা থেকে আগামী ৩০ জুন মধ্য রাত পর্যন্ত এই লকডাউন চলমান থাকবে। লকডাউনকে বাস্তবায়নের জন্য সকল গণপরিবহন, যাত্রীবাহী পরিবহন বন্ধ থাকবে। শুধু খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ বা পণ্যবাহী যানবাহন চলবে। ফেরিতে সব রকম যাত্রীবাহী পরিবহন বন্ধ থাকবে, শুধুমাত্র পণ্যবাহী, অ্যাম্বুলেন্স এবং জরুরি সেবামূলক কাজে নিয়োজিত যানবাহন চলবে।

তিনি আরও বলেন, লঞ্চ ও স্পীডবোট বন্ধ এবং যে কোন গণজমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জনগণ যেন বিনা কারণে ঘর থেকে বেরিয়ে না আসে সে বিষয়েও আমরা মাইকিং করেছি এবং সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়েছি। বিভিন্ন জায়গায় চেকপোস্ট বসানো হয়েছে এবং পুলিশ বিভাগের টহল টিম দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করবেন। নির্দেশনা না মানলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় মাদারীপুরে ৪৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৮ জন করোনা পজিটিভ হয়েছেন। সংক্রমণের হার ৩৭ দশমিক ৫ ভাগ। এছাড়া একই সময়ে মৃত্যুবরণ করেছেন একজন। এ নিয়ে জেলায় মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১ জনে।



বিষয় : মাদারীপুর ফেরি

মন্তব্য করুন