সারাদেশে ব্যাটারি রিকশা ও ভ্যান চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে রিকশা, ব্যাটারি রিকশা, ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদ। বুধবার সকাল ১১ টায় সংগঠনটির ঢাকা মহানগর শাখার উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম নেতা তানভীর নাঈমের সভাপতিত্বে এই সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগ্রাম পরিষদ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক খালেকুজ্জামান লিপন, সংগ্রাম পরিষদ নেতৃবৃন্দ মো. ইকবাল, আলী আকবর, মো. রিপন, মো. ইমন ও আনোয়ার হোসেন।

সমাবেশে বক্তারা গত ২০ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রলায়ের সড়ক পরিবহণ টাস্কফোর্স এর সভায় সারাদেশে ব্যাটারি রিকশা, ভ্যান চলাচল বন্ধে  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা অবিলম্বে এই গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বন্ধের আহ্বান জানান।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত দেড় বছরে করোনামহামারি ও টানা লকডাউনে নানা পেশার শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত এবং কর্মহীন হয়েছেন।  নতুন করে আরো আড়াই কোটি মানুষসহ দেশের ৫০ ভাগের উপরে মানুষ যখন দারিদ্রসীমার নিচে চলে গেছে, সেই সময়ে ৫০ লাখ রিকশা, ব্যাটারি রিকশা ও ভ্যান, ইজিবাইক, নসিমন, করিমন চালককে বেকার ও কর্মহীন করার চক্রান্ত চলছে।

বক্তাগণ আরও বলেন, টাস্কফোর্সের সভায় ব্যাটারি রিকশার ব্রেক পদ্ধতি বা এর কাঠামোগত দু্র্বলতা দুর্ঘটনার কারণ দেখিয়ে এসব যান রাস্তা থেকে থেকে উচ্ছেদের কথা বলা হয়েছে। কিন্ত সেই কাঠামোগত দুর্বলতা কাটানোর কোন সুপারিশ না করে রাস্তা থেকে উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত অনেকটা মাথা ব্যথার কারণে মাথা কেটে ফেলার মত।

বক্তারা বলেন, আজকে ডিজিটাল যুগে এসে ম্যানুয়্যাল প্যাডেল চালিত রিকশার পরিবর্তে মানুষ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে শারীরিক কষ্ট লাঘব করতে চাইবে এটাই স্বাভাবিক।

এসময় বক্তারা সড়ক পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন মেয়রকে ব্যাটারি রিকশা ও ভ্যান বন্ধে কঠোর হওয়ার আহ্বানেরও তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে ব্যাটারি রিকশা ও ইজিবাইক চলাচল বন্ধে নেয়া সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং নকশা আধুনিকায়ন ও নীতিমালা প্রণয়ন করে ব্যাটারিতালিত রিকশা-ইজিবাইকসহ যান্ত্রিক যানবাহনের লাইসেন্স দ্রুত প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তা না হলে ৪ দফা দাবিতে দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।

সংগ্রাম পরিষদের চারদফা দাবিগুলো হলো-

১. সারাদেশে ব্যাটারি রিকশা ও ভ্যান চলাচল বন্ধের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অযৌক্তিক, গণবিরোধ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার কর। ৫০ লাখ মানুষের আত্মকর্মসংস্থান ও আড়াই কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষা কর।

২. নকশা আধুনিকায়ন ও নীতিমালা প্রনয়ণ করে কাঠামোগত পরিবর্তন করে ব্যাটারিচালিত/বিদ্যুত চালিত যানবাহনের লাইসেন্স প্রদান কর। প্রকৌশলী, পরিবহন বিশেষজ্ঞ, বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় অভিজ্ঞ মেকানিকদের নিয়োগ করে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের যথোপযুক্ত নকশা এবং নিরাপদ ব্রেক পদ্ধতি নিশ্চিত কর।

৩. বিকল্প ব্যবস্থা বা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা ছাড়া রিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা বা যানবাহন ও ইজিবাইক উচ্ছেদ ও হয়রানি বন্ধ কর।

৪. প্রতিটি সড়ক-মহাসড়কে সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী রিকশা, ইজিবাইকসহ স্বল্প গতির এবং লোকাল যানবাহনের জন্য পৃথক লেন, সার্ভিস রোড নির্মাণ কর। পুলিশি হয়রানি, নির্যাতন ও সর্বত্র চাঁদাবাজি বন্ধ কর।

সমাবেশে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে পরবর্তী কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়।