গত ২৪ ঘন্টায় পাবনা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ২ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুরে হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ইয়োলো জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মৃত্যুবরণ করেন। 

মৃতরা হলেন পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের সুর্য সরকারের ছেলে আব্দুর রশিদ সরকার (৫০) এবং আরিফপুর মহল্লার আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে ইয়াসমিন আক্তার (৩৮)। পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা.আইয়ুব হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৯৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৮৮ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এখনও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৮৪ জন। 

পাবনার সিভিল সার্জন মনিসর চৌধুরী সমকালকে জানান, ‘করোনা সংক্রমণ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ায় এবং বিভিন্ন এলাকায় মানুষের নির্বিঘ্নে চলাচলের কারণে পাবনাতেও করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাচ্ছে।’ সবাইকে এ ব্যাপারে সচেতন হওয়ার কথাও বলেন তিনি।

সারাদেশের মতো পাবনাতেও করোনাভাইরাস সংক্রমণ বেড়েছে। মহামারির প্রথম থেকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বুধবার এই সংক্রমন ছিল ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এর আগের দিন মঙ্গলবার ছিল ১০ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং সোমবার ছিল ১৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ। 

পাবনা জেলার ৯ উপজেলার মধ্যে ঈশ্বরদী উপজেলায় করোনা সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি হলেও কেপিআই জোন হওয়ায় ঈশ্বরদী নিয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। করোনা সংক্রমণ আকস্মিকভাবে বেড়ে গেলেও জেলার করোনা চিকিৎসা সেবার এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি।

পাবনা জেলা সিভিল সার্জন অফিসের পরিসংখ্যান বিভাগের তথ্য অনুসারে, এ পর্যন্ত পাবনা জেলায় ৩ হাজার ৬৩৫ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। সর্বমোট শনাক্তের হার ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ হলেও, গত সাত দিনের শনাক্তের হার ৬ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। 

জেলার মোট করোনা আক্রান্ত রোগীর প্রায় এক তৃতীয়াংশই পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার - জানিয়ে সিভিল সার্জন বলেন, ‘ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের কারণে বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ শ্রমিকের অবাধ চলাচল রয়েছে। ফলে ঈশ্বরদীতে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে জেলার সার্বিক করোনা সংক্রমণে।’

ঈশ্বরদী উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আসমা খান সমকালকে বলেন, ‘গত দুই সপ্তাহে করোনা সংক্রমণ বেড়েছে।’ আক্রান্তদের অধিকাংশই রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বলে উল্লেখ করেন তিনি।


বিষয় : পাবনা জেনারেল হাসপাতাল করোনাভাইরাস মৃত্যু

মন্তব্য করুন