করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সারাদেশে লকডাউন ঘোষণার পর টানা তৃতীয়দিনের মতো রোববারও মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীদের ঢল নেমেছে। পদ্মা পার হয়ে দক্ষিণের বিভিন্ন জেলায় যাওয়ার জন্য রাজধানী ও আশপাশের জেলাগুলোর হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেছে এ ঘাটে।

যাত্রীদের চাপের মধ্যে রোববার সকাল থেকে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার রুটের ১৬টি ফেরির মধ্যে ১৫টি চলাচল করছে। পণ্যবাহী ট্রাক ও জরুরি পরিষেবার যানবাহনের পাশাপাশি হাজারও মানুষ স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে ফেরিতে গাদাগাদি করে পদ্মা পাড়ি দিচ্ছে। ঢাকা ও বিভিন্ন জেলা থেকে অনেকেই বিভিন্ন বাহনে ভেঙে ভেঙে পৌঁছাচ্ছে শিমুলিয়ায়।

মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের চেকপোস্ট বসিয়ে ঘাটে আসার আগেই যানবাহন ফিরিয়ে দেওয়া হলেও যাত্রীরা পায়ে হেঁটে ঠিকই ফেরিঘাটে পৌঁছে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

লঞ্চ, স্পিডবোট ও ট্রলার বন্ধ থাকায় ফেরিতে করেই সব যাত্রী পারাপার হচ্ছে। প্রতিটি ফেরিতেই অল্প সংখ্যক যানবাহনের সঙ্গে যাত্রীদের ভিড়। সকাল থেকে দক্ষিণবঙ্গগামী যাত্রীদের চাপ ছিল চোখে পড়ার মতো।

শুধু পন্যবাহী ও জরুরি পরিষেবার যানবাহন পারাপারের কথা থাকলেও ফেরিতে ব্যক্তিগত গাড়ি পারাপার হতেও দেখা গেছে। এদিকে গণপরিবহন না থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে অন্যান্য বাহনে করে ভেঙে ভেঙে মানুষকে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। শিমুলিয়া ঘাটের ৩ নম্বর পল্টুনের সংযোগ সড়ক বর্ষার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এ সমস্যা আরও বেড়েছে।

জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে মোট ২০টি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এরমধ্যে ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ সড়ক, শহর ও শহরের আশপাশেই আটটি চেকপোস্ট রয়েছে। এসবে দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ সদস্যরা।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) শিমুলিয়া ঘাটের ম্যানেজার মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, শত চেষ্টা করেও যাত্রীদের থামানো যাচ্ছে না। চাপ বেড়ে যাওয়ায় ১৫টি ফেরি চালু রাখতে হচ্ছে।

করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় মুন্সিগঞ্জসহ ঢাকা বিভাগের সাত জেলায় গত ২২ জুন জরুরি পরিষেবা ছাড়া সব ধরনের কার্যক্রম ও চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। এসব জেলায় বাস, ট্রেন ও লঞ্চ চলাচলও বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু পণ্যবাহী ট্রাক ও জরুরি সেবার যানবাহন পারাপারের জন্য শিমুলিয়া-বাংলাবাজার রুটে সীমিত পরিসরে ফেরি চালু রেখেছিল কর্তৃপক্ষ।

বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাটের সুপারিন্টেন্ডেন্ট মেহেদী হাসান জানান, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ায় বিশেষজ্ঞদের সুপারিশে সারাদেশে লকডাউন জারির ঘোষণা আসে গত শুক্রবার। ফলে শনিবার সকাল থেকেই অনেকে ঢাকা ছাড়তে শুর করে। পণ্যের গাড়ির জন্য চালু রাখা ফেরিতে মানুষের ঠাসাঠাসি ভিড় শুরু হয়ে যায়।

শনিবার রাতে সরকার ঘোষণা দেয়, সোমবার থেকে সীমিত পরিসরে লকডাউন এবং বৃহস্পতিবার থেকে ‘কঠোর লকডাউন’। এ খবরের পর রোববার সকাল থেকে শিমুলিয়ায় মানুষের চাপ আরও বেড়ে গেছে।

মাওয়া ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ জাকির হোসেন বলেন, যাত্রীদের ঘাটে আসা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে সড়কে গত দুইদিনের তুলনায় রোববার মানুষের চাপ আরও বেড়েছে।

জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন দেব জানান, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে সড়কে ট্রাফিক ও জেলা পুলিশের একাধিক চেকপোস্ট রয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া কোনো যানবাহন ঘাট মুখে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রতিটি উপজেলাসহ জেলা সদরেই ছয়টি চেকপোস্ট রয়েছে। জরুরিসেবা সংশ্লিষ্ট দোকান ছাড়া সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া ইতোমধ্যে জেলায় কঠোরভাবে লকডাউন পালনে কার্যকর বিভিন্ন ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।