তালাক (নিবন্ধন) আইন অনুযায়ী তালাকের নোটিশে নারীর উদ্দেশে ব্যবহূত কিছু শব্দ নিয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। রুলে নোটিশে নারীর প্রতি অবমাননাকর, অমানবিক, অযৌক্তিক শব্দের ব্যবহার কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত' ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এক রিটের শুনানি নিয়ে এই রুল জারি করেন। চার সপ্তাহের মধ্যে আইন সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল নোমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। পরে আব্দুল্লাহ আল নোমান সাংবাদিকের বলেন, প্রচলিত রীতি অনুযায়ী নিকাহ রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে পাঠানো তালাক নোটিশে কিছু শব্দের ব্যবহার করা হয়, যা একজন নারীর প্রতি চরম অবমাননাকর। এর ফলে পরে সংশ্নিষ্ট নারীর পারিবারিক জীবনে এবং পরবর্তীতে বিয়ে করার ক্ষেত্রে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি করে। এ জন্য ক্ষতিগ্রস্ত এবং বিব্রতকর একজন নারী হাইকোর্টে রিটটি করেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২ জুন তালাক নোটিশে ব্যবহূত কিছু শব্দের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন কানাডার উইনজা ইউনিভার্সিটিতে কর্মরত এক নারী। রিটে বলা হয়, ২০১১ সালে পরিচয়ের পর ২০১৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় কানাডার রিট আবেদনকারীর। দুই বছরের মাথায় ২০১৭ সালের অক্টোবরে আবেদনকারীকে তালাক নোটিশ পাঠান তার স্বামী। ওই নোটিশে তালাক দেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়, 'স্ত্রী স্বামীর অবাধ্য, যাহা শরিয়তের সম্পূর্ণ পরিপন্থি। তাহার উক্ত চাল-চলন পরিবর্তন করার জন্য আমি নিজেই বহুবার চেষ্টা করিয়াছি। কিন্তু অদ্যাবধি তাহার কোনো পরিবর্তন সাধিত হয় নাই।' 

এ পরিপ্রেক্ষিতে তালাকের পর আবেদনকারী নারী ফের বিয়ে করতে গেলে তালাক নোটিশে ব্যবহূত শব্দের কারণে তাকে বিব্রত ও অবমাননাকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে। এ জন্য রিটে তালাক নোটিশে ব্যবহূত 'স্ত্রী স্বামীর অবাধ্য', 'শরিয়তের সম্পূর্ণ পরিপন্থি' এ ধরনের শব্দকে 'অবমাননাকর, অমানবিক, অযৌক্তিক' হিসেবে ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞার নির্দেশনা চাওয়া হয়।