লকডাউনে শ্রমজীবী মানুষদের জন্য রেশনের ব্যবস্থা করাসহ তিন দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন।

রোববার দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড়ে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে এসব দাবি জানান ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।

তাদের অন্যান্য দাবিগুলো হলো- সবার জন্যে জরুরি অক্সিজেন সেবা নিশ্চিত করা এবং লকডাউনে শ্রমজীবী মানুষদের কোনো ধরনের হেনস্তা না করা।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মো. ফয়েজ উল্লাহর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক দীপক শীলের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য জিকে সাদিক।

সভাপতির বক্তব্যে ফয়েজ উল্লাহ বলেন, শ্রমজীবী মানুষদের খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত না করে লকডাউনের ঘোষণা কোনো সুফল বয়ে আনছে না। গার্মেন্টস খোলা আছে, কিন্তু যানবাহন চলছে না। এটি অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত। শ্রমিকেরা পায়ে হেঁটে কর্মস্থলে যাচ্ছে। রাষ্ট্রের অমানবিক চিত্র আমাদের সামনে ফুটে উঠছে। লকডাউনের সুফল পেতে অবিলম্বে  সকল শ্রমজীবী মানুষকে রেশনিং এর আওতায় আনতে হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সকল নাগরিকের জন্য টিকার ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি বলেন,  হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন সংকটসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব দেখা দিয়েছে। হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের দ্রুত ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা দেখলাম সাতক্ষীরায় হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেম বিকল হয়ে মানুষ মারা গেছে। কার গাফিলতির কারণে এতো মানুষের প্রাণ গেল তার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

ফয়েজ উল্লাহ আরও বলেন, রাজশাহীতে একজন কলেজ শিক্ষকের হাত ভেঙে দিয়েছে ম্যাজিস্ট্রেট। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হয়ে একজন নাগরিককে আঘাত করার স্পর্ধা দেখিয়েছে এই ম্যাজিস্ট্রেট। অবিলম্বে সেই ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। টিকা নিয়ে ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। লকডাউনে যেসব শ্রমজীবী মানুষ পেটের দায়ে রাস্তায় নামছেন তাদেরকে কোনোভাবেই হেনস্তা করা যাবে না। কোনো নাগরিককে হেনস্তা করার অধিকার রাষ্ট্রের নেই।