বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের দুই শীর্ষ নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন এবং নুরুল হক নুরের মধ্যে দ্বন্দ্বের অবসান হয়েছে।  

রোববার দিনভর নাটকীয়তা শেষে বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে বিষয়টি জানিয়েছেন রাশেদ খাঁন। এ সময় ডাকসুর সাবেক ভিপি সংগঠনের যুগ্ম-আহ্বায়ক নুরুল হক নুরের সঙ্গে নিজের একটি ছবিও পোস্ট করেছেন রাশেদ। 

ফেসবুক পোস্টে চলমান বিতর্কের বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে রাশেদ বলেন, ‘আমরা বয়সে তরুণ। এ কারণে মাঝেমধ্যে বক্তব্য, কথা ও কাজে ভুল করে বসি। তবে নুর (নুরুল হক নুর) ও আমার মধ্যে যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে সেটার অবসান হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে সুন্দর সমাধান হয়েছে।’

নুরুল হক নুর সমকালকে বলেন, ‘আলোচনার মাধ্যমে আমরা একটি সমাধানে পৌঁছেছি। একসঙ্গে রাজনীতি করতে গেলে অনেক সময় মনোমালিন্য হয়। এগুলো কাটিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব।’

রাশেদ খাঁন বলেন, ‘সমস্যা সমাধানে আমরা দীর্ঘ তিন ঘণ্টা মিটিং করেছি।মিটিং থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে রাজনৈতিক দল গঠনের সিদ্ধান্ত উঠে এসেছে। দল গঠনের পর ছাত্র অধিকার পরিষদের কাউন্সিল দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সমস্যা সমাধান হওয়ায় সংগঠনের আগের কমিটি বহাল রয়েছে ‘

মিটিং শেষে নুরের ফেসবুক পেইজ থেকে একটি ছাত্র, যুব, শ্রমিক অধিকার পরিষদের ব্যানারে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। 

এতে বলা হয়, ছাত্র, যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদের এক যৌথ সভায় ছাত্র অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন ও যুগ্ম-আহ্বায়ক সোহরাব হোসেনকে স্বপদে বহাল করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে ছাত্র অধিকার পরিষদ ও ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যুব অধিকার পরিষদের কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব বাছাই ও নতুন কমিটি গঠনে স্ব স্ব সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

ছাত্র অধিকার পরিষদে নিজেদের ঐক্য ধরে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘আশা করি ভবিষ্যতে নিজেরা চলার পথে আরও বেশি সতর্ক থাকব। নুর ও আমার মধ্যে কোটা সংস্কার আন্দোলনের শুরুর দিন থেকে সুসম্পর্ক ছিল। ভবিষ্যতেও সম্পর্ক ধরে রেখে নিজেরা ঐক্যবদ্ধ থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’

নিজেদের মধ্যে ‘ভুল বোঝাবুঝির’ জন্য দেশবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে রাশেদ বলেন, ‘আমরা দেশের মানুষকে অভিভাবক মনে করি। আমাদের ভুল হলে তারা অবশ্যই সমালোচনা করবেন। তারা পরামর্শ দিবেন, যাতে নিজেদেরকে শুধরে নিয়ে আরো পরিপক্ব করে গড়ে তুলতে পারি।সবার কাছে আবারও ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’

এর আগে গত ২ জুলাই ছাত্র, যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদের সমন্বয়ক ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর এক বিজ্ঞপ্তিতে রাশেদ খাঁনকে অব্যাহতি দেয়। ছাত্র অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন রাশেদ। 

এর বিপরীত ব্যবস্থা হিসেবে রোববার এক পাল্টা নোটিসে নুরুল হক নুরকে এই ঘটনায় কারণ দর্শাতে বলেন রাশেদ। এমনকি সংগঠনে ছাত্র, যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদে সমন্বয়ক নামে কোনো পদ নেই বলেও দাবি রাশেদ খানের। পরে রোববার ফের আলোচনার টেবিলে সমাধানে পৌঁছান সংগঠনটির শীর্ষ দুই নেতা।