লকডাউনের মধ্যে সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জের একাংশ) আসনে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে প্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। 

এ ব্যাপারে রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ করেছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান আতিক। 

বৃহস্পতিবার অনলাইনে অভিযোগ করা হয় বলে জানান আতিকের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মামুনুর রশীদ মামুন। তবে কোনো অভিযোগ দেখেননি বলে জানান রিটার্নিং অফিসার জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম।

মামুনুর রশীদ মামুন সমকালকে বলেন, গত বুধবার তারা লিখিত অভিযোগ নিয়ে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু লকডাউনের জন্য অফিস বন্ধ থাকায় রিসিভ না করে অনলাইনে তাদের অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। আতিকের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান হাবিব মঈন ও মামুনুর রশীদ মামুন অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করেন। ইতোপূর্বে হাবিবের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ করেন আতিক। তবে রিটার্নিং অফিসারের পর নির্বাচন কমিশনও এই অভিযোগ খারিজ করেন।

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা হাবিবের মনোনয়নপত্র বাতিলের দাবিতে উচ্চ আদালতে যাওয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন জাপা নেতা আতিক। বর্তমানে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হাবিব দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করেন। গতকাল পর্যন্ত দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে আদালতের দ্বারস্থ না হলেও চলমান লকডাউনে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে হাবিবের বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিক।

হাবিবের বিরুদ্ধে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে সব প্রার্থীর জন্য নির্বাচন কমিশন সমান সুযোগ-সুবিধা প্রদানের নির্দেশনা দিয়েছেন। করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউন চলাকালে গত ১ জুলাই থেকে সব ধরনের প্রচার বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি করা হয়। নির্দেশনা মেনে জাপার প্রার্থীসহ অন্য স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সব ধরনের প্রচার থেকে বিরত রয়েছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের প্রার্থী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নির্বাচনী এলাকার তিনটি উপজেলাতে বিরামহীনভাবে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

লকডাউনের মধ্যে হাবিবের প্রচার-প্রচারণার তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানান মামুনুর রশীদ মামুন। তিনি বলেন, প্রচারের ছবিসহ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করছেন হাবিবের কর্মীরা। এমনকি হাবিব নিজে সব কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে বক্তব্যও দিয়েছেন। বিষয়টি আতিকুর রহমান আতিকের কর্মী-সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী এবং জাতীয় পার্টি ও অঙ্গসংগঠনের সর্বস্তরের কর্মীর দৃষ্টিগোচর হয়েছে। নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে তাই ব্যবস্থা নেওয়া একান্ত আবশ্যক।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব জাতীয় পার্টির প্রার্থীর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি সমকালকে বলেন, লকডাউনের জন্য ৭ জুলাই পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন প্রচার বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল। এই সময়ে আমরা কোনো প্রচার করিনি। 

বৃহস্পতিবার থেকে তারা আবার প্রচার শুরু করেছেন উল্লেখ করে বলেন, লকডাউন অব্যাহত থাকলেও নির্বাচন কমিশন থেকে নতুন কোনো বিধিনিষেধ নেই। ফলে দলীয় নেতাকর্মীসহ আমি প্রচারে নেমেছি। অন্যান্য যারা নির্বাচনে আছেন তারাও চাইলে প্রচার করতে পারেন।

হাবিব অভিযোগ করে বলেন, জাতীয় পার্টির প্রার্থী একদিকে আমাকে ছোট ভাই বলে সম্বোধন করেন। আরেক দিকে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। অযথা দ্বৈত নাগরিকত্বের ইস্যু তুলে মনোনয়নপত্র বাতিল করতে চেয়েছিলেন। তাতে ব্যর্থ হয়ে এখন মিথ্যা অভিযোগ করছেন।

আগামী ২৮ জুলাই সিলেট-৩ আসনে উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণের কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রতীক বরাদ্দ হলেও করোনা পরিস্থিতির জন্য ৭ জুলাই পর্যন্ত প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল নির্বাচন কমিশন। নতুন করে আর কোনো নির্দেশনাও জারি করেনি নির্বাচন কমিশন। 

গত ১১ মার্চ করোনা আক্রান্ত হয়ে আওয়ামী লীগের এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস মারা যাওয়ায় এই আসন শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।