রাত পোহালেই কোপা আমেরিকা ফুটবলের ফাইনাল। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার ধ্রুপদী লড়াই দেখতে প্রস্তুত গোটা দুনিয়া। তবে বরাবরের মতো এবারও দুই মেরুতে দুই দেশের সমর্থকেরা, যার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। বাংলাদেশেও ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার সমর্থকরা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী, কোপা আমেরিকার ফাইনালেও। সে দৃশ্য দেখা যাচ্ছে ফেসবুকের ওয়াল থেকে শুরু করে মাঠে-ঘাটেও।

এরই মধ্যে বাড়ির ছাদে-জানালার কার্নিশে উড়তে শুরু করেছে দুই দলের পতাকা। করোনার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ থাকলেও প্রিয় দুই দলের জার্সি বিক্রি থেমে নেই। দুই দলের জার্সি আর পতাকা বিক্রির জন্য ঢাকার গুলিস্তানে ক্রীড়া সামগ্রী বিক্রির দোকানগুলোর কয়েকটি খুলেছে। লকডাউনের বিধিনিষেধ ভেঙে শনিবার এসব দোকানে ভক্তদের ভিড়ও দেখা গেছে।

ক্রেতাদের আর্জেন্টিনার জার্সি  দেখাচ্ছেন এক দোকানি-সমকাল 

গুলিস্তানে মাওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামের উল্টোপাশের ফুটপাতে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার জার্সি আর পতাকা বিক্রি করছিলেন ইয়ার উদ্দিন। তিনি সমকালকে বলেন, লকডাউনে দোকানপাট বন্ধ। কিন্তু চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের ফাইনালের আগে জার্সি-পতাকার বেচাবিক্রি যে ভালো হবে-তা জেনেই ঝুঁকি নিয়ে সাজিয়ে বসেছি পসরা।

ইয়ার উদ্দিনের দোকানে ভিড়ও দেখা গেল ক্রেতাদের। অনেকেই প্রিয় দলের পতাকা কিনছিলেন তিনশ' টাকায়; জার্সি প্রতিটা দুইশ' টাকা করে। ভিড় এড়িয়ে দ্রুত জার্সি কেনে সরে পড়ার জন্যও তাড়া দিচ্ছিলেন তিনি।

ক্রেতাদের  ব্রাজিলের জার্সি  দেখাচ্ছেন এক দোকানি- সমকাল 

ওয়ারীর বনোগ্রাম থেকে প্রিয় দল ব্রাজিলের জার্সি কিনছিলেন হুমায়ুন কবির। পেশায় ছাত্র কবির বলছিলেন, মনে মনে তিনি জার্সি খুঁজছিলেন। লকডাউনে তা কিনতে পারবেন না ভেবে তার আফসোসও হচ্ছিল। কিন্তু কাপ্তানবাজারে কাঁচাবাজার করতে এসে দেখলেন কয়েকজনকে নতুন জার্সি কিনে ফিরছেন। খবর নিয়ে তিনিও চলে এসেছেন তা কিনতে। ভালোই লাগছে রোববার সকালে প্রিয় দলের জার্সি পরেই খেলা দেখতে বসতে পারবেন।

বিশালাকারের আর্জেন্টিনার পতাকা টাঙাচ্ছেন দুই সমর্থক - সমকাল 

তার একটু দূরে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের বেলপট্টির গলিতেও জার্সি আর পতাকার সারি সারি দোকান সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। এসব দোকানেও ভিড় দেখা গেল। 

তবে 'অবৈধভাবে' দোকান খুলেছেন-এই ভয়ে কথা বলতে চাইলেন না কোনো দোকানিই। তারা শুধু বলছিলেন, ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার ফাইনাল খেলা সামনে রেখে তাদের বেচাবিক্রি ভালোই হতো। কিন্তু লকডাউনে সেটা সম্ভব হয়নি। এরপরও খবর পেয়ে দল দুটির ভক্তরা আসতে শুরু করেছে জার্সি আর পতাকা কিনতে।

বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের পূর্ণিমা স্ন্যাকসের সামনে লাঠিতে ঝুলিয়ে পতাকা আর ব্যাগ কাঁধে করে জার্সি বিক্রি করছিলেন সজীব হোসেন। তিনি বলেন, নানা টুর্নামেন্টেই তিনি স্টেডিয়াম এলাকায় জার্সি আর পতাকা বিক্রি করেন। এবার পুরো এলাকায় ঘুরে ঘুরে বিক্রির চেষ্টা করছেন। বিক্রিও তার খারাপ হচ্ছে না। পথচারীদের যে দেখছেন, সেই কিনে নিচ্ছেন প্রিয় দলের জার্সি বা পতাকা।