গৃহবধূর সঙ্গে প্রেমের অভিযোগে বর্বরতার শিকার হয়েছেন এক যুবক। আইন-আদালত উপেক্ষা করে সালিশি সিদ্ধান্তে তাকে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত করার পর জুতার মালা পরিয়ে গ্রাম ঘোরানো হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, জরিমানাও করা হয়েছে তাকে। সেই সঙ্গে জোরপূর্বক তালাক দেওয়া হয়েছে ওই গৃহবধূকে।

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার মালিহাদ ইউনিয়নের আসাননগর গ্রামে রোববার সকালে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ঘটনায় জড়িত কয়েকজনকে গতকাল সোমবার আটক করেছে পুলিশ।

মালিহাদ ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন জানান, ঝুটিয়াডাঙ্গা গ্রামের সেন্টু আলীর ছেলে সাইফুল ইসলামকে (২৫) একই এলাকার এক গৃহবধূর (২২) সঙ্গে কথিত প্রেমের অভিযোগে গত শুক্রবার রাত ১২টার দিকে আটক করে স্থানীয়রা। রাতেই তাকে এবং ওই গৃহবধূকে ইউপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নওয়াব আলীর আসাননগর গ্রামের বাড়িতে আটকে রাখা হয়। রোববার সকাল ১০টার দিকে ওই ইউপি সদস্যের বাড়ির সামনে সালিশ বসে। নওয়াব আলী ও মালিহাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আকরাম হোসেন সালিশে নেতৃত্ব দেন।

সালিশের সিদ্ধান্তের বিষয়ে আলমগীর হোসেন জানান, হাত বেঁধে সাইফুলকে ৩০ বার বেত্রাঘাত করেন ইউপি সদস্য নওয়াব আলী। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, শখানেক মানুষ সাইফুলকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিবার বেত্রাঘাতের সময় সমস্বরে তারা সংখ্যা গুনছে। একপর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও বেতের বাড়ি থেকে রেহাই মেলেনি সাইফুলের। পরে তাকে জুতার মালা পরিয়ে গ্রাম ঘোরানো হয়। তাকে তিন হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়। ওই টাকা ইউপি সদস্য নওয়াব আলী নিজের কাছেই রেখে দেন।

চেয়ারম্যান আরও জানান, সাইফুলের সঙ্গে যে গৃহবধূর প্রেমের অভিযোগ করা হচ্ছে, তা নিয়ে অন্য কথাও শোনা যাচ্ছে। একটি পক্ষ বলছে, ওই গৃহবধূর সঙ্গে তার ভাশুরের বিরোধ রয়েছে। তারা প্রতিশোধ নিতে অনৈতিক সম্পর্কের গল্প ছড়িয়েছে। সালিশের নামে যে বর্বরতা করা হয়েছে, তার শাস্তি হওয়া উচিত।

ইউপি সদস্য নওয়াব আলীসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে মিরপুর থানা পুলিশ। ওসি গোলাম মোস্তফা বলেছেন, তদন্তসাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




সম্পাদনা :রাসেল পারভেজ