মহামারি করোনাভাইরাসের প্রভাবে এবার রাজধানীর কোরবানির হাটে পশু বিক্রিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করছেন পশুর ব্যাপারিরা। তাদের ভাষ্য- গত বছরের ন্যায় এবারও কাঙ্ক্ষিত দামের চেয়ে ‘অনেক কম দামে’ পশু বিক্রি করে দিতে হয়েছে তাদের।

বাড্ডার আফতাবনগর হাটের বেপারি কামাল তালুকদার বলেন, ‘এ বছর করোনায় কোরবানির পশুর হাটে ব্যাপক ধস নামল।’ ঢাকার শাহজাহানপুর রেলগেট বাজার সংলগ্ন কোরবানির পশুর হাটে বেপারি সবুজ মিয়া হা পিত্যেস করে বলছিলেন, '৩০ হাজার টাকা লস খাইলাম।' তার ৮-৯ মণ ওজনের হরিয়ানা গরুটি কিনেছেন রামপুরার আফতাব আহমদ। ব্যাপারি সবুজ মিয়া দাম হেঁকেছিলেন আড়াই লাখ টাকা। কিন্তু আফতাব আহমদ ৭৫ হাজার টাকা বলেন। তুমুল দরাদরির পর ২ লাখ টাকায় রফা হয়। 

সবুজ মিয়া বলেন, ‘২ লাখ ৩০ হাজার টাকা দাম হইলে আমার লাভ হইত। কিন্তু অহন করোনার বাজারে আমারে লসেই গরু ছাইড়্যা দিতে হইল। কি করমু? গরু তো ফিরায়া নিওন যাইব না।’

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা থেকে গরু নিয়ে আসা আরেক ব্যাপারি তারেক মিয়ার সঙ্গে কথা হয় শাহজাহানপুর হাটে। 

তিনি বলেন, ‘আমার ৫টা দেশি গরু প্রতিটা অন্তত ১০ হাজার টাকা লসে বিক্রি করতে হইসে। আমার লাভ বলতে এইবার কিছুই হল না। করোনার বাজারে সব শেষ।’

তারেক মিয়ার মতো রাজধানীর অন্যান্য হাটে গরু নিয়ে আসা বেপারিরাও বলছেন, তারা এবার বড় ক্ষতির মুখে।

এই ব্যাপারীরা গরু কিনে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ঢাকায় আনেন বিক্রির জন্য। বিক্রি না হলে সেগুলো ফেরত নিতে হলেও ট্রাক ভাড়া যায় অনেক, ফলে বিক্রি করে টাকা নিয়ে যাওয়াই তাদের লক্ষ্য। করোনা মহামারিকালে অর্থনৈতিক সঙ্কট কিংবা স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে এবার ঢাকায় কোরবানি অনেকেই দিচ্ছেন না, ফলে গরু বিক্রিতে নেমেছে ধস।

রাজধানীর আফতাবনগর হাটে বেপারি ইলিয়াস মিয়া বলেন, ‘আমি একটা দেশি গরুর দাম চাইলাম ৯০ হাজার টাকা, দাম কইল ৪০ হাজার টাকা। শেষ পর্যন্ত হয়তো লসেই বেচা লাগব। কী আর করমু।’

মঙ্গলবার রাজধানীর আফতাবনগর, মেরাদিয়া বাজার-সংলগ্ন হাট, উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টরের বৃন্দাবন, ভাটারা (সাইদনগর) হাটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, দেশি আবাল, দেশি শাহীওয়াল ক্রস, এরে- তিন ধরণের গরুর সংখ্যাই বেশি।

আফতাবনগর হাট থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায়  একটি দেশি আবাল কিনে নিয়েছেন নতুনবাজারের বাসিন্দা ইদ্রিস আলী। তিনি বলেন, ‘এ গরুটার দাম চাইছিল,  ২ লাখ ৭৫ হাজার। অনেক দামাদামির পর এই দামে পাইলাম। বাজেটের চেয়ে ২০ হাজার টাকা বেশি লাগছে। কিন্তু তাতেও খুশি আমি।’

বৃন্দাবন হাটে গরু নিয়ে আসা কুষ্টিয়ার বেপারি সাঈদুল ইসলাম বলেন. “৪-৫ দিন হাটে আসছি, একটা গরুও বিক্রি করতে পারছি না। এবার ব্যবসা পুরোটাই লস বলা চলে। করোনাভাইরাস ধসিয়ে দিল এবারের ব্যবসা।”

ভাটারার ছোলমাইদ হাটে এবার ২৫টি ষাঁড় নিয়ে এসেছিলেন পাবনার আতাইকুলার আর এস আর অ্যাগ্রো ফার্মের খামারি জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, “আমাদের একেকটা ষাঁড়ের দাম পড়বে দেড় লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা। কিন্তু ক্রেতারা যে দাম বলছেন, তাতে আমাদের পোষাচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত গরু কিছু বিক্রি করতে পারব, আর কিছু পারব না।”

হাটে গরু বিক্রি না হওয়ায় এবার কোরবানির হাটের ইজারাদাররাও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কারণ গরু বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থের একাংশ থেকে তাদের আয় আসে।

বিষয় : করোনাভাইরাস কোরবানির হাট পশু বিক্রি বেপারি

মন্তব্য করুন