করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনা করে গার্মেন্টস ও রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানা খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। কঠোর লকডাউনে গার্মেন্টস ও রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানা খোলা রাখতে এফবিসিসিআই ও বিজেএমইএ'র আবেদনের বিষয়ে এ কথা জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার সমকালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘গার্মেন্টস ও রপ্তানিমুখী কলকারখানা বিষয়ে আপাতত কোনো সিদ্ধান্ত নাই। অবস্থা পরিবর্তন হলে চিন্তাভাবনা করা যাবে। তবে সেটা এ মাসের ভেতরে না।’ 

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে গত ১ জুলাই থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে কঠোর লকডাউন আরোপ করে সরকার। এরপর ঈদুল আজহা উপলক্ষে মানবিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে শিথিল করা হয় বিধিনিষেধ, তুলে নেওয়া হয় লকডাউন। 

ঈদের দুদিন পর শুক্রবার থেকে সেই লকডাউন আবারও কার্যকর করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।  এবারের লকডাউন বাস্তবায়নে সরকার আরও কঠোর হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস বন্ধ থাকলে অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে এমন যুক্তি দেখিয়ে বিজিএমএই প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব বরাবর চিঠি দিয়েছে ঈদুল আজহার আগে। পরে একই যুক্তিতে শিল্পকারখানা খুলে দেওয়ার দাবি জানায় দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)।

ঈদের আগে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেন বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাতের সংগঠনগুলোর নেতারা। 

বৈঠকে উদ্যোক্তারা বলেন, টানা ১৪ দিন কারখানা বন্ধ থাকলে রপ্তানি আদেশ হারাতে হবে। শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে সংকট তৈরি হতে পারে। রপ্তানিমুখী গার্মেন্টসগুলোর উৎপাদন বন্ধ থাকলে ইউরোপ, আমেরিকার ক্রেতারা বাংলাদেশের অর্ডার বাতিল করে দিতে পারেন বলে আশঙ্কা করেন তারা। তারা বলছেন, অনেক কারখানার মালিক দেউলিয়া হয়ে পড়বেন। কর্মসংস্থান এবং অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেছেন, বিধিনিষেধের মধ্যে সব ধরনের শিল্প কারখানা বন্ধ রাখা হলে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিঘ্নিত হবে। এতে উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। বিশেষ করে, খাদ্যসামগ্রী, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, বোতলজাত পানীয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য উৎপাদন বন্ধ থাকলে সাধারণ ভোক্তারা সমস্যায় পড়বেন। পণ্যসামগ্রী সঠিকভাবে সরবরাহ ও বাজারজাত না হলে পণ্যের মূল্য বাড়বে। এতে স্বল্প আয়ের মানুষ বিপদে পড়বে। পশাপাশি তৈরি পোশাকসহ রপ্তানি খাতে ক্রয়াদেশ হারাতে হবে।