ঈদের দিনের চেয়ে দ্বিতীয় দিন রাজধানীতে তুলনামূলক পশু কম কোরবানি হয়েছে। এতে সরবরাহ কম থাকায় চামড়ার দাম কিছুটা বেড়েছে। প্রতিটি গরুর চামড়া ৫০ থেকে ১০০ টাকা বাড়তি দামে বিক্রি হয়েছে। তবে ঈদের দু’দিনই মেলেনি ছাগলের চামড়ার দাম। মসজিদ ও মাদ্রাসাগুলোতে শত শত পিস চামড়া জমা হয়েছে। বিক্রি করতে না পারায় কোথাও কোথাও শেষ পর্যন্ত ফেলে দিয়েছেন বলে জানায় কমিটির সদস্যরা। এদিকে ঢাকায় চামড়ার দাম কিছুটা ভালো পেলেও ঢাকার বাইরে খুবই কম দামে বেচাকেনা হয়েছে। 

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঈদের দিন দেখা না মিললেও বৃহস্পতিবার ফড়িয়া, মৌসুমি ও খুচরা ব্যসায়ীরা মহল্লাগুলোতে ঘুরে চামড়া কিনেছেন। বুধবার প্রতিটি কাঁচাচামড়া ২৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বেশিরভাগ বিক্রি হয়েছে। তবে মসজিদ ও মাদ্রাসাগুলোর জমানো চামড়া একত্রে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছে। আজ তা ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশি দিয়ে কিনছেন বলে জানান কল্যাণপুরের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, আজ ৩০০ থেকে ৭০০ টাকায় চামড়া কিনেছেন। এই চামড়া আড়তে ৪০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন।

রাজধানীর মিরপুরের টোলারবাগ খানকায় মশুরিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার কমিটির সভাপতি ড. ওসমান গনি মিয়াজী বলেন, এবার ঈদের দিনভর চামড়া মাদ্রাসায় এসেছে। সারা দিনে কোনো ক্রেতা আসেনি। এখানে প্রায় গরুর ৫০০ চামড়া ও ছাগলের শতাধিক চামড়া এসেছিল। বুধবার সন্ধ্যার পর গরুর চামড়া গড়ে ৬০০ টাকায় বিক্রি করেছেন। কিন্তু ছাড়লের চামড়া বিক্রি করতে পরেনি। তা ফেলে দিতে হয়েছে।    

পুরান ঢাকার লালবাগে কাঁচা চামড়ার আড়তদারদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান সমকালকে বলেন, আড়তে যারা চামড়া নিয়ে এসেছেন তারা ভাল দাম পেয়েছেন। আড়তে ছোট চামড়া ৪০০ টাকা ও বড় চামড়া ৭০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া বাছাই করা কিছু বড় চামড়া এর চেয়েও বেশি দামে বেচাকেনা হয়েছে। এবার ঢাকায় মসজিদ ও মাদ্রাসার মাধ্যমে চামড়া বেশ ভালোভাবে সংগ্রহ হয়েছে। এ কারণে মহল্লায় চামড়া পড়ে থাকেনি। এতে চামড়া নষ্ট না হওয়ায় গত বারের চেয়ে দাম কিছুটা ভালো পেয়েছে। 

এবার মহল্লা থেকে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা আজ একটু বেশি দামে কিনলেও আড়তে চামড়া একই দামে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান আড়তদার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। রাজধানীর জন্য লবণযুক্ত কাঁচা চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৪০ থেকে ৪৫ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৩৩ থেকে ৩৭ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। এছাড়া প্রতি বর্গফুট খাসির চামড়া ১৫ থেকে ১৭ টাকা, বকরির চামড়া ১২ থেকে ১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

সরকার দাম বেঁধে দিলেও ঢাকায় প্রায় অর্ধেক দামেই বেচাকেনা হয়েছে। তবে ঢাকার বাইরে দাম আরও কম। ঢাকার বাইরে কুমিল্লায় লাখ টাকা গরুর চামড়া ১০০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গাজীপুরে বড় চামড়া ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ওই এলাকার কোরবানিদাতা কামরুল হাসান জানান, এক লাখ ৫ হাজার টাকার গরুর চামড়া মাত্র ৪০০ টাকায় বিক্রি করেছেন। আবার ধান গবেষণা এলাকায় কোরবানি দিয়েছেন মো. রুহুল আমিন। 

তিনি বলেন, চামড়ার কোনো ক্রেতা আসেনি। এ কারণে বাধ্য হয়ে মাদরাসায় চামড়া দাম করেছেন। এর ফলে মাদ্রাসায় দিতে পারলেও এলাকার গরীব মানুষদের টাকা দেওয়া সম্ভব হয়নি।  

ঢাকার বাইরে পটুয়াখালী, বরিশাল, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদাহ,লক্ষীপুর ও ফেনীসহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব এলাকায় চামড়ার ফরিয়ারা যায়নি। এ কারণে বেশিরভাগই মাসজিদ ও মাদ্রাসায় দিয়ে দিয়েছেন। এসব এলাকায় চামড়া বেচাকেনায় নামমাত্র দাম পেয়েছেন। প্রতিটি গরুর চামড়া ১০০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছে। কোথাও ছাগলের চামড়ার দাম মেলেনি। এসব এলাকায় ছাগলের চামড়া ফেলে দিয়েছে। 

বিষয় : ঈদ চামড়া দাম

মন্তব্য করুন