কঠোর লকডাউন নিয়ে বিএনপির কট্টর সমালোচনার জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ উল্টো প্রশ্ন ছুঁড়ে বলেছেন,  ‘বিএনপি’র পরিকল্পিত লকডাউনটা কি! সেটা ২০১৩-১৪-১৫ সালে ১৫৮ দিন মানুষকে বন্দি করে রাখার মতো কি?’

সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে তথ্যমন্ত্রীর সাথে মতবিনিময়কালে সাংবাদিকরা লকডাউন নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সমালোচনার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি একথা বলেন। 

মির্জা ফখরুলকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন,‘লকডাউন নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে একেক সময় একেক ধরণের কথা বলা হচ্ছে। লকডাউন দেওয়ার আগে তারা বলেছিল দেশে কঠোর লকডাউন দেয়া দরকার। আবার লকডাউন দেয়ার পর বলছে এই লকডাউন অপরিকল্পিত। তাহলে তাদের পরিকল্পিতটা কি, সেটার প্রেসক্রিপসনটা তারা দিক।’

২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত লাগাতার হরতাল-অবরোধ ডেকে জনগণকে ‘বন্দি করে  অসুবিধায় ফেলা’ বিএনপি এখন লকডাউন নিয়ে কেন প্রশ্ন তুলছে তা জানতে চান আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

মির্জা ফখরুলের ‘সরকার দিন দিন হিংস্র হয়ে উঠছে, বিএনপিকর্মীদের গ্রেপ্তার করছে’ এ বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে হিংস্রতার রাজনীতি বিশেষ করে ২০১৩-১৪-১৫ সালে যেভাবে মানুষকে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করে হত্যা করা, বহু মানুষকে ঝলসে দেয়া, বহু মানুষকে জীবনের তরে পঙ্গু করে দেওয়া, এটি বাংলাদেশে আগে কেউ কখনো দেখেনি। পৃথিবীতেও সমসাময়িককালে রাজনীতির জন্য এভাবে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করা কেউ দেখেনি।’ 

লকডাউনের মধ্যে যদি কেউ ফৌজদারী অপরাধ করেন তার পরিচয় যাই হোক না কেন, তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানান হাছান মাহমুদ।

 তিনি বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেবরা ফৌজদারী অপরাধের আসামীর পক্ষ কেন নেন। কোনো রাজনীতিবিদও যদি ফৌজদারী মামলার আসামি হন, আইন এবং আদালত তো তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেবেন। আইন এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠার সাথে রাজনীতির কোনো সংশ্লেষ নেই।’ 

গত বছরের ৮ মার্চ  থেকে করোনার প্রকোপ শুরু হয় বাংলাদেশে। 

হাছান মাহমুদের দাবি, ‘করোনার দেড় বছরে বাংলাদেশে একজন মানুষও না খেয়ে মারা যাননি।’ 

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আজকে তো মানুষের জীবন রক্ষার জন্য লকডাউন দিতে হচ্ছে এবং শুধু বাংলাদেশে নয়, পাশ্ববর্তী দেশ ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশসহ পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই এই পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে ‘

আওয়ামী লীগ সরকারের নানা কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন. ‘সরকার ও  আমাদের দলের পক্ষ থেকে ব্যাপক তৎপরতার কারণে মানুষের মধ্যে কোনো হাহাকার নেই। সাময়িক অসুবিধা যে হচ্ছে না, তা নয়। অবশ্যই অনেকের সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে। তবে এ অসুবিধা সাময়িক। সবাই যদি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে তাহলে লকডাউন বিলম্বিত করতে হবে না। 

এখন গ্রামাঞ্চলেও করোনা ছড়িয়েছে এ প্রেক্ষিতে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি মানুষের মধ্যে করোনার শুরুতে যে ধরণের ভীতি ছিল, সেই ভীতিটা নেই। দীর্ঘ একবছর গ্রামে করোনা না ছড়ানোর প্রেক্ষিতে গ্রামের মানুষের মধ্যে একটি ধারণা জন্মেছিল গ্রামে কখনো করোনা আসবে না। কিন্তু আজকে আমরা দেখতে পাচ্ছি, শহরের হাসপাতালগুলোতে যে রোগীরা ভর্তি হচ্ছে তার ৭০ ভাগ গ্রাম থেকে আসছে।’ 

সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য আবারও অনুরোধ জানিয়ে ড. হাছান বলেন, নিজের সুরক্ষার জন্যই লকডাউন এবং স্বাস্থ্যবিধি মানা প্রয়োজন।’