আপত্তিকর বক্তব্য রাখায় খুলনার তেরখাদা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এফ এম ওহিদুজ্জামানকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া তাকে কারণ দর্শনোর নোটিশও দেয়া হয়েছে। সোমবার দুপুরে দলীয় কার্যালয়ে খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া  হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ জুলাই তেরখাদা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে দরিদ্রদের মাঝে চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন ওই ইউপি’র চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা ওহিদুজ্জামান। দলের নেতাকর্মীরা চাল বিতরণ অনুষ্ঠানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিলে তা ভাইরাল হয়। এ নিয়ে দলের মধ্যে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ নেতা ওহিদুজ্জামান বলছেন, ‘সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মুর্শেদী শুধু রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়া নয়, তিনি বাংলাদেশের সম্পদ। তিনি বাংলাদেশ নিয়ে কাজ করেন। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন বাইরে যান তখন কিন্তু সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মুর্শেদী ডোনেশন করেন, টাকা দেন। খুলনা জেলায় অনেক এমপি আমাদের আবদুস সালাম মুর্শেদীর টাকায় হইছে।’

জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক এম এ রিয়াজ কচি জানান, সোমবারের সভায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার পর আওয়ামী লীগ নেতা ওহিদুজ্জামানকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাকে ১০ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিতে হবে। এছাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ১ নম্বর সহ-সভাপতি এফ এফ নওয়াব আলী টিপুকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়।

তিনি জানান, সেদিন আওয়ামী লীগ নেতা ওহিদুজ্জামানের বক্তৃতার পর সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মুর্শেদী মোবাইল ফোনে হ্যান্ডমাইকে বক্তৃতা করেন। কিন্তু তিনি ওহিদুজ্জমানের কথার কোনো সংশোধনী দেননি। সে কারণে তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে সুপারিশ পাঠানোর জন্য সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সভায় আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বর্ধিত সভা ও কার্যনির্বহী কমিটির সভা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে আওয়ামী লীগ নেতা ওহিদুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মুর্শেদী সমকালকে বলেন, ওহিদুজ্জামানের বক্তৃতার পর তিনি মোবাইল ফোনে উপস্থিত জনগণের উদ্দেশ্যে বক্তৃতা করেন। তার বক্তৃতার আগে ওহিদুজ্জামান কী বলেছিল তা তিনি শোনেননি।