দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আওয়ামী লীগের উপকমিটির সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করার একদিন পরই ফেসবুক লাইভে এসেছেন তিনি। সোমবার রাত ৯টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড পেজ থেকে লাইভে এসে হেলেনা জাহাঙ্গীর কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এ সময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি সরকারের জন্য একটা চ্যানেল চালাচ্ছি। সেটা জয়যাত্রা টেলিভিশন। সেই চ্যানেল আমি ভতুর্কি দিয়ে চালাচ্ছি প্রায় চার বছর যাবৎ। আমি চ্যানেলের বাইরে কোনো কাজ করতে পারি না, এত মনোযোগ দিতে হয় আমাকে।’

হেলেনা বলেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে ও লালন করে চলছি। জয়যাত্রা ছোট হোক, চ্যানেল তো। আমি তো চালাচ্ছি সরকারের জন্য।’

তিনি বলেন, ‘পুরুষরা এত খারাপ কেন, সব পুরুষ না, কিছু কিছু পুরুষ। এত খারাপ যে, মেয়েদের পেছনে লেগে থাকে। লজ্জা করে না আপনাদের, মেয়েদের পেছনে লেগে থাকতে। মেয়েরা না মায়ের জাতি। মা না থাকলে আপনার জন্ম হতো না। সেই মেয়েদেরকে আপনারা অপমান করেন, লেলিয়ে দেন; হেলেনা জাহাঙ্গীরের পেছনে লাগো।’

হেলেনা জাহাঙ্গীর আরও বলেন, ‘মন্ত্রী মহোদয় আছেন, এমপিরা আছেন। আপনারা আমাদের পরামর্শ দেবেন। আমাদের কাজ করার সুযোগ দেবেন। তা না করে আপনারা আমাদের অপমান করেন, অ্যারেস্ট করার হুকুম দেন। আপনি কি অ্যারেস্ট করার হুকুম দিতে পারেন। আপনি কি বড় জন? আপনি আমাকে অ্যারেস্ট করার জন্য বলতে পারেন। পারেন না কখনোই।’

তিনি বলেন, ‘আমি যদি আজকে এই কথাগুলো শেয়ার না করতাম, তাহলে আমি হয়তো হার্ট অ্যাটাক করে মারা যেতে পারতাম। স্ট্রোক করেও মরতে পারতাম। আমার যে কষ্ট, এগুলো অবশ্যই শেয়ার করতে হবে। যদি মরেও যাই জাতি যেন মনে রাখে। যারা লেলিয়ে দিচ্ছে এবং যারা কমেন্ট করছেন; সাইবার ক্রাইমকে অনুরোধ, ওরা কারা, ওরা কোত্থেকে এসেছে।’

জয়যাত্রা গ্রুপের কর্ণধার হেলেনা জাহাঙ্গীর নিজেকে আইপি টিভি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেন। সম্প্রতি ফেসবুকে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামের একটি সংগঠনের সভাপতি হিসেবে হেলেনা জাহাঙ্গীরের নাম আসে।

সেই কারণেই গত শনিবার তাকে উপকমিটির পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় মহিলাবিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি।