ময়মনসিংহে শাকিল মিয়া (১৯) নামে এক তরুণকে ডেকে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বুধবার সকালে তিনজনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করেছেন। 

পুলিশ এজাহারভুক্ত তিন আসামিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে গতকাল বিকেলে আদালতে হাজির করেছে। শাকিল নগরীর আকুয়া ভাঙাপুল এলাকার বাসিন্দা আইনুল হকের ছেলে।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার আকুয়া বিস্কুট ফ্যাক্টরি সড়কে নির্মাণাধীন তিনতলা একটি ভবনের নিচে সেলিম সরকারের ডোবা জমিতে কচুরিপানার ভেতর থেকে শাকিলের লাশ উদ্ধার করা হয়। আগের দিন সোমবার বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে স্থানীয়রা ডোবায় মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশের ধারণা, সোমবার বিকেল থেকে মঙ্গলবার সকাল ৯টার মধ্যে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

এ ঘটনায় পুলিশ একই এলাকার ফারুক হোসেনের ছেলে সোহাগ মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে সোহাগ। সোহাগের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, সোহাগের সঙ্গে শাকিলসহ কয়েকজন মাদক সেবন করত। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। সোহাগের মাকে শাকিল গালি দিয়েছে- এমন কারণ দেখিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে সোহাগ। শাকিলকে ডেকে নিয়ে যায় নির্মাণাধীন ওই ভবনে। শ্বাসরোধ ও আঘাত করে শাকিলকে হত্যার পর লাশ ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়। পরে নিচে নেমে কচুরিপানা দিয়ে লাশ ঢেকে পালিয়ে যায় ওরা।

পুলিশ ঘটনার জড়িত থাকার অভিযোগে আকুয়া ভাঙাপুল এলাকার মো. সজীব মিয়া ও শান্তকে মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে আটক করে। শাকিলের বাবা আইনুল হক বাদী হয়ে বুধবার সকালে সোহাগ, সজীব ও শান্তকে আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। গ্রেপ্তার আসামিদের তথ্য অনুযায়ী আকুয়া ভাঙাপুল এলাকার কাউসার আহমেদ রনি ও হাবিবুর রহমানকে বুধবার আটক করা হয়।

মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই শুভ্র সাহা বলেন, পূর্ববিরোধের জের ধরে শাকিলকে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে।