রাজধানীর মহাখালীতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ডেডিকেটেড কভিড-১৯ হাসপাতালের সামনে গতকাল বুধবার বিকেল ৫টায় এসে দাঁড়ায় দুটি অ্যাম্বুলেন্স। একটি অ্যাম্বুলেন্স থেকে স্ট্রেচারে করে নামানো হয় লতিফুন্নেছা বেগম নামের এক রোগীকে। কিন্তু হাসপাতাল থেকে জানানো হয়, কোনো শয্যাই ফাঁকা নেই।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থেকে লতিফুন্নেছাকে ঢাকায় নিয়ে এসে বিপদে পড়ে যান ছেলে ওবায়দুল হক। তিনি সমকালকে বলেন, সম্প্রতি তার মায়ের করোনা শনাক্ত হয়। শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ার পর গত মঙ্গলবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। কিন্তু বুধবার সকালে অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৭০-এ নেমে আসে। চিকিৎসকরা দ্রুত ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। এরপরই অ্যাম্বুলেন্সে তার মাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনা হয়। কিন্তু শয্যা ফাঁকা না থাকায় ভর্তি করাতে পারছেন না। মাকে বাঁচাতে একটি শয্যার আকুতি জানিয়ে ওবায়দুল বলেন, 'শ্বাসকষ্টে মায়ের নিঃশ্বাস প্রায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। একটি শয্যা না পেলে মাকে বাঁচানো যাবে না।'
ডিএনসিসির এই হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন সমকালকে বলেন, শয্যা ফাঁকা না থাকলে রোগী ভর্তি করার সুযোগ থাকে না। কারণ, করোনা রোগীদের হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হলে তাদের অক্সিজেন অথবা আইসিইউ সাপোর্টের প্রয়োজন হয়। এর জোগান দিতে না পারলে রোগী ভর্তি করেও কোনো লাভ হবে না। ভর্তি থাকা রোগীদের মধ্যে কেউ সুস্থ হলে কিংবা মৃত্যুবরণ করলে তখনই শয্যা ফাঁকা হয়। কিন্তু যত শয্যা ফাঁকা হয়, তার তুলনায় কয়েক গুণ রোগী সিরিয়ালে থাকেন। এ কারণে অধিকাংশ রোগীকে ভর্তি করা সম্ভব হয় না।
ডিএনসিসির এই হাসপাতালের মতো রাজধানীর প্রায় প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রের একই চিত্র। করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির পর হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ তো দূরের কথা, সাধারণ শয্যা পাওয়াও দুরূহ হয়ে পড়ছে। হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরেও শয্যা মিলছে না। শয্যা পাওয়ার জন্য সিরিয়াল দিতে হচ্ছে। ছোট ছোট কয়েকটি হাসপাতালে কিছু শয্যা ফাঁকা থাকলেও তাতে রোগী ভর্তি হচ্ছে না।
এর মধ্যেই গতকাল রাজধানীর হাসপাতালে ভর্তির জন্য এক দম্পতির প্রাণপণ চেষ্টার খবর মানুষের মনকে নাড়া দেয়। রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালে দুপুর ১টার দিকে করোনায় আক্রান্ত নাসরিন সুলতানাকে নিয়ে এসেছিলেন তার স্বামী আবদুর জাহেদ রাজু। নাসরিনের অবস্থা এতটাই খারাপ লাগছিল যে তিনি ঠিকমতো দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলেন না। তার অবস্থা দ্রুত খারাপ হচ্ছে দেখে রাজু তাকে মোটরসাইকেলে বসিয়ে নিজের শরীরের সঙ্গে ওড়না দিয়ে বেঁধে নিয়ে যান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে। কিন্তু সেখানেও ভর্তি করাতে পারেননি তিনি। কারণ, সিট নেই। পরে মহাখালীর ডিএনসিসি কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে নেওয়ার আধা ঘণ্টা পর নাসরিনকে ভর্তি করা সম্ভব হয়।
জানা গেছে, গ্রাম থেকে স্রোতের মতো করোনা সংক্রমিত রোগীরা ঢাকার হাসপাতালে ভিড় করছেন। এ কারণে ঢাকার হাসপাতালে শয্যা সংকট তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। তিনি সমকালকে বলেন, রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পরিদর্শনে গিয়ে রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। তাদের প্রতি ১০ জনের মধ্যে আটজনই গ্রাম থেকে এসেছেন।
তিনি জানান, পরে ঢাকার অন্যান্য হাসপাতালে খোঁজ নিয়েও দেখা গেছে, ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ গ্রাম থেকে আসা। একই সঙ্গে ভর্তি থাকা রোগীদের ৯০ শতাংশই টিকা নেননি। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়, গ্রামে সংক্রমণ পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সুতরাং গ্রামে ব্যাপকভিত্তিক টিকাদান শুরু করতে হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যথায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।
শয্যার জন্য হাহাকার :তিনটি হাসপাতালে ঘুরেও করোনা আক্রান্ত ২৭ বছর বয়সী জজনূর আক্তারের জন্য শয্যা মেলেনি। গত মঙ্গলবার রাতে অ্যাম্বুলেন্সে করে সাড়ে চার ঘণ্টার ভোগান্তিতে তার শ্বাসকষ্ট আরও বেড়ে গিয়েছিল। তার কিডনি জটিলতাও আছে। চলতি মাসের ২৩ তারিখে করোনা পজিটিভ হলেও মঙ্গলবার তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয় তার। পরে তার স্বামী সেদিন রাত ১০টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ঘুরেও রোগীকে ভর্তি করাতে পারেননি। মেলেনি অক্সিজেন সেবাও।
পরে স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান 'জয় বাংলা অক্সিজেন সেবা' থেকে অক্সিজেন নিয়ে দক্ষিণখানের উচারটেকের বাড়িতে চলে যান। দেলোয়ার এই প্রতিবেদককে বলেন, 'হাসপাতালে ঘুরে কোনো উপায় না পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসকের পরামর্শে রোগী বাসায় নিয়ে এসেছি। অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। এখন একটু ভালো আছে।'
সংকটাপন্ন অবস্থায়ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ৪২ বছর বয়সী শারমীন ইসলামের জন্যও শয্যা মেলেনি। করোনা আক্রান্ত শারমীনের অক্সিজেনের মাত্রা ৯২-এ নেমে এলে মঙ্গলবার রাতে তার পরিবার হাসপাতালে ভর্তির চেষ্টা করেন। রাত ১০টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত রাজধানীর ছয়টি বেসরকারি হাসপাতাল ঘুরেও তার জন্য শয্যা পাওয়া যায়নি।
তার এক আত্মীয় বলেন, ল্যাবএইড, স্কয়ার, বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতাল, শমরিতা, গ্রিন লাইফ ও সেন্ট্রাল হাসপাতালে খুঁজেছি রাতভর। কিন্তু রোগীকে ভর্তি করাতে পারিনি। বিভিন্নভাবে লবিং করা হলে দু-একটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বুধবার সকালে যোগাযোগ করতে বলে। অথচ এর মধ্যে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যেতে পারত! পরে ওই রাতেই এক পরিচিত চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফেরত নেওয়া হয়। তাকে এখন ল্যাবএইডে ভর্তির চেষ্টা চলছে।'
বিভিন্ন জেলা শহর থেকে রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে রোগী নিয়ে আসার পর শয্যা সংকটে তারা চোখেমুখে অন্ধকার দেখছেন। কুড়িগ্রামের উলিপুরের কামরুল হাসানও তার বাবাকে ঢাকায় এনে হাসপাতালে ভর্তি করাতে না পেরে ভেঙে পড়েছেন। তার বাবা ৭০ বছর বয়সী মোহাম্মদ আলী করোনা উপসর্গ নিয়ে শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। উচ্চ রক্তচাপও আছে। গতকাল পর্যন্ত কয়েকটি সরকারি হাসপাতাল খুঁজেও পাওয়া যায়নি একটি শয্যা। নানাভাবে তদবির করার পর আজ বৃহস্পতিবার শয্যা পেতে পারেন বলে আশার বাণী শুনেছেন তিনি। তাদের এক আত্মীয় সমকালকে বলেন, 'পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে, নিজেদের বেলায় না ঘটলে বুঝতাম না।'
মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. অসীম কুমার নাথ সমকালকে বলেন, কয়েক দিন ধরে রোগীর চাপ অনেক বেড়ে গেছে। তাদের হাসপাতালে ৩২০ জন রোগী ভর্তি আছেন। এ অবস্থায় নতুন রোগী ভর্তি করালে তাদের অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়া সম্ভব হবে না। সুতরাং রোগী ভর্তি করে কোনো লাভ হবে না। পুরোনো রোগীদের ছাড়পত্র দেওয়ার পর নতুন রোগী ভর্তি করা সম্ভব হবে।
প্রায় একই কথা বলেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক। তিনি সমকালকে বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ৭৬২টি শয্যার একটিও ফাঁকা নেই। একটু পরপর রোগী আসছেন। পুরোনো রোগী চলে গেলে কিংবা কারও মৃত্যু হলে শয্যা ফাঁকা হয়। এরপর ওই শয্যায় নতুন রোগী ভর্তি করা হয়। যাদের ভর্তি করা সম্ভব হয় না, তাদের অন্য হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বেশি চাপ ঢাকার হাসপাতালে :ঢাকা মহানগরের সরকারি হাসপাতালের ৭১ দশমিক ৭৩ শতাংশ সাধারণ শয্যা ও ৯৭ দশমিক ৬১ শতাংশ আইসিইউ শয্যায় এবং বেসরকারি হাসপাতালের সাধারণ শয্যার ৭৫ দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং আইসিইউর ৮৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ শয্যায় রোগী ভর্তি আছে। ঢাকা নগরীর সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের ৭৩ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ সাধারণ শয্যা এবং ৮৯ দশমিক ৫০ শতাংশ আইসিইউ শয্যায় রোগী ভর্তি আছে। চট্টগ্রাম মহানগরীর সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের ৭৫ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ সাধারণ শয্যায় এবং ৭১ দশমিক ৪২ শতাংশ আইসিইউ শয্যায় রোগী ভর্তি রয়েছে।
ঢাকা বিভাগের হাসপাতালের ৭৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ সাধারণ শয্যা এবং ৮৮ দশমিক ১৯ শতাংশ আইসিইউ শয্যায় রোগী ভর্তি আছে। চট্টগ্রাম বিভাগের ৫৯ দশমিক ৬৪ শতাংশ সাধারণ শয্যা এবং ৮২ দশমিক ২৪ শতাংশ আইসিইউ শয্যায় রোগী ভর্তি আছে। ময়মনসিংহ বিভাগের ৫৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ সাধারণ শয্যা এবং ২৭ দশমিক ২৭ শতাংশ আইসিইউ শয্যায় রোগী ভর্তি আছে। রাজশাহী বিভাগের ৬৯ দশমিক ১৬ শতাংশ সাধারণ শয্যা এবং ৮৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ আইসিইউ শয্যায় রোগী ভর্তি আছে। রংপুর বিভাগের ৪৮ দশমিক ৩১ শতাংশ সাধারণ শয্যা এবং ৫৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ আইসিইউ শয্যায় রোগী ভর্তি আছে।
খুলনা বিভাগের ৫৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ সাধারণ শয্যা এবং ৯৪ দশমিক ৮০ শতাংশ আইসিইউ শয্যায় রোগী ভর্তি আছে। বরিশাল বিভাগের ৯৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ সাধারণ শয্যা এবং ৬৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ আইসিইউ শয্যায় রোগী ভর্তি আছে। সিলেট বিভাগের ৪৯ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ সাধারণ শয্যা এবং শতভাগ আইসিইউ শয্যায় রোগী ভর্তি আছে। সারাদেশে কভিড-১৯ ডেডিকেটেড সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের সাধারণ শয্যার ৬৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং ৮৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ আইসিইউ শয্যায় রোগী ভর্তি রয়েছে।
চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানোর তাগিদ বিশেষজ্ঞদের :করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে চিকিৎসাসুবিধা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পরপরই চিকিৎসাসুবিধা সম্প্রসারণের কথা বারবার বলে আসছি। আগের তুলনায় চিকিৎসাসুবিধা বেড়েছে, কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল।
তিনি বলেন, গত মে মাস থেকে আইসিইউ, ভেন্টিলেটরসহ অক্সিজেন সুবিধা সম্প্রসারণের তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী জেলা সদর হাসপাতাল পর্যন্ত আইসিইউ সুবিধা নিশ্চিত করতে বললেও সেটি বাস্তবায়ন হয়নি। এমনকি পর্যাপ্ত সাধারণ শয্যাও বাড়েনি। করোনার সংক্রমণপ্রবণ ভারতীয় ধরনে ভারত বিপর্যস্ত হয়েছিল। সেই ধরন এখন বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় সংক্রমিত ব্যক্তিদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা না গেলে চরম মূল্য দিতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ সমকালকে বলেন, প্রতিদিনই শনাক্ত ও মৃত্যু বাড়ছে। প্রতিদিন গড়ে ১৫ হাজার মানুষ আক্রান্ত হলে আগামী ১০ দিনে সংখ্যাটি দেড় লাখ হবে। তাদের মধ্যে ১০ শতাংশ মানুষের হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন পড়লে শয্যা দেওয়া সম্ভব হবে না। তখন ভারতের মতো অবস্থার সৃষ্টি হবে। রোগী বাড়লে চিকিৎসা না পেয়েই হয়তো মৃত্যুবরণ করতে হবে। কারণ, ইতোমধ্যে ৭৫ শতাংশের মতো শয্যা পূরণ হয়ে গেছে। রোগী বাড়তে থাকলে বাকি শয্যাও পূর্ণ হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, এই মুহূর্তে প্রয়োজন জরুরি ভিত্তিতে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ করা। কিন্তু স্বাস্থ্য বিভাগ কর্তৃপক্ষ এতে কতটুকু করতে সক্ষম হবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ ঈদের আগে ফিল্ড হাসপাতালের ঘোষণা দেওয়া হলেও তার কার্যক্রম এখনও দৃশ্যমান হয়নি। এর পরও তাদের প্রতি দ্রুত চিকিৎসাসুবিধা বাড়ানোর আহ্বান থাকবে। অন্যথায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।
রোগী বাড়লে হাসপাতালে শয্যা সংকট তৈরি হবে বলে মনে করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকও। তিনি সমকালকে বলেন, ইতোমধ্যে রাজধানীর কভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালে শয্যার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। অনেক হাসপাতালে আইসিইউর পাশাপাশি সাধারণ শয্যাও ফাঁকা পাওয়া যাচ্ছে না। একটি শয্যা ফাঁকা হলে ১০ থেকে ১৫ জন রোগী সিরিয়ালে থাকছেন। কার আগে কে ভর্তি হবেন- এমন প্রতিযোগিতা চলছে। ঢাকায় বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছে। এর মধ্যে গ্রাম থেকে আক্রান্তরা ঢাকায় ভিড় করছেন। সব মিলিয়ে ঢাকার হাসপাতালে শয্যা সংকট তৈরি হয়েছে। এভাবে রোগী বাড়তে থাকলে কোনো চিকিৎসা ব্যবস্থাপনাই কাজে আসবে না। সুতরাং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এ জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।