সুন্দরবনে বাঘের বসবাসের অনুকূল পরিবেশ নেই। বাঘের বসবাস উপযোগী নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। এ জন্য সুন্দরবনে মানুষের উপদ্রব কমাতে হবে।

বৃহস্পতিবার বিশ্ব বাঘ দিবসের আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। 

এ দিন বিকেলে 'বাঘ বাঁচায় সুন্দরবন, সুন্দরবন বাঁচায় লক্ষ জীবন' স্লোগানে বন অধিদপ্তর আয়োজিত ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার বলেন, সুন্দরবনের রক্ষক বাঘ সংরক্ষণে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। কোভিডকালে সুন্দরবনে মানুষের উপদ্রব কম হওয়ায় বাঘের পরিমাণ বেড়েছে। কিছু মানুষের জন্য বিশ্ব ঐতিহ্যের সুন্দরবন এবং বাঘের কোনো ক্ষতি হতে দেওয়া হবে না।

সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণের লক্ষ্যে রক্ষিত এলাকার পরিমাণ আরো বাড়ানো হবে। বাঘ শিকার প্রতিরোধে সুন্দরবনের মধ্যে জিপিএস এর সাহায্যে 'স্মার্ট পেট্রোলিং' পরিচালনা করা হচ্ছে। সুন্দরবনে বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বন বিভাগ ড্রোন ব্যবহার করছে। বন্যপ্রাণীর সুপেয় পানির জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক মিঠাপানির পুকুর খনন করা হয়েছে। 

সুন্দরবনে বর্তমানের ১১৪টি বাঘ রয়েছে, এ সংখ্যা দ্বিগুন করতে কাজ করছে সরকার।

প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমির হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ওয়েবিনারে বক্তব্য রাখেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তফা কামাল, অতিরিক্ত সচিব ইকবাল আবদুলল্গাহ হারুন এবং প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিদ মজুমদার বাবু প্রমুখ।

সরকার কখনও বাঘ রক্ষায় গুরুত্ব দেয়নি

বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) 'বাঘ দিবসে বাঘের গল্প' শীর্ষক ওয়েবিনার বাপার সভাপতি সুলতানা কামাল বলেন, বাঘ আমাদের সাহস, শক্তি ও সংস্কৃতির পরিচয়। অথচ সরকার কখনও বাঘ রক্ষায় গুরুত্ব দেয়নি। কথা ছিল ১০ বছরে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করবো। তা হয়নি। নানা অজুহাত দেওয়া হয়েছে। শুভংকরের ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বরাবর অবহেলার শিকার হয়ে আসছে বাঘ।

তিনি বলেন, আগে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো আমাদের কথা শুনত। এখন এসব সংস্থা আর আগের মতো নেই। সরকারের পক্ষে কথা বলতে থাকে। তবে এখন একটি প্রজন্ম সচেতন হয়েছে, সংবেদনশীল হয়েছে। এটাও একটি ভালো দিক। সুন্দরবনকে যেভাবে আছে সেভাবেই থাকতে দেন।

বাপার সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিলের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে বক্তব্য রাখেন বাপা'র বন, জীববৈচিত্র্য, প্রাকৃতিক সম্পদ ও জ্বালানি বিষয়ক কমিটির সহ-আহ্বায়ক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনিরুল হাসান খান ও অধ্যাপক ড. এম এ আজিজ, মোংলার স্থানীয় বনজীবী বেলায়েত সরদার, মোংলার জয়মনির ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিমের নান্টু গাজী, পশুর রিভার ওয়াটারকিপার নূর আলম শেখ।