চট্টগ্রামে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া কুলসুম আক্তার কুলসুমীকে গ্রেপ্তারের আদালতে তোলা হলে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহনাজ রহমানের ভার্চুয়াল আদালত তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। 

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে নামের মিল থাকায় বদলি সাজাভোগ করা মিনু কারামুক্তির পর বৃহস্পতিবার ভোরে নগরের ইপিজেড থানার ২ নম্বর মাইলের মাথা কমিশনার গলি এলাকা থেকে কুলসুমকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। 

পুলিশ প্রকৃত আসামির পরিবর্তে নিরাপরাধ মিনুকে হাজতবাস করানোর ঘটনায় কুলসুম আক্তার কুলসুমী ও তার সহযোগী মর্জিনা আক্তার নামে এক নারীর বিরুদ্ধে প্রতারণা করার ঘটনায় দন্ডবিধির ৪১৯ ও ১০৯ ধারায় একটি মামলা দায়ের করে পুলিশ।

কোতোয়ালী থানার ওসি নেজাম উদ্দিন বলেন, কুলসুম আক্তার কুলসুমী ও সহযোগী মার্জিনা আক্তারের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত শুনানি শেষে প্রত্যেকের ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।যদিও কুলসুমের পরিবর্ততে মিনু কারাগারে সাজাভোগ করেছেন ২ বছর ৯ মাস ১০ দিন। 

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কুলসুম লোহাগাড়া উপজেলার গৌরস্থান মাঝের পাড়া আহাম্মদ মিয়ার বাড়ির আনু মিয়ার মেয়ে। তার বর্তমান ঠিকানা কোতোয়ালী থানাধীন রহমতগঞ্জ সাঈদ ডাক্তারের ভাড়া বাড়ি।

কোতোয়ালী থানার ওসি নেজাম উদ্দিন বলেন, কুলসুম আক্তার কুলসুমীকে ভোরে পতেঙ্গা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এক আসামির জায়গায় অন্যকে সাজাভোগ করানোর ঘটনায় কুলসুমা ও মজিনা নামে দুই জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

প্রকৃত আসামি কুলসুমকে একটি হত্যা মামলায় আদালত যাবজ্জীবনসহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। তার পরিবর্তে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জেল খাটেন মিনু। 

বিষয়টি সম্প্রতি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শফিকুল ইসলাম খান আদালতের নজরে আনেন। এরপর গত ২২ মার্চ আদালতে মিনুকে জামিন দেয় আদালত।

জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরীর রহমতগঞ্জে একটি বাসায় ২০০৬ সালের ২৯ জুলাই মাসে মোবাইলে কথা বলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গার্মেন্ট কর্মী কোহিনুর আক্তার পারভীনকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। এরপর রহমতগঞ্জে একটি গাছের সাঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। কোহিনুর আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি করেন গার্মেন্ট কর্মী কুলসুম আক্তার কুলসুমী। পরে একটি অপমৃত্যু মামলা হয়। 

পুলিশ দুই বছর তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট দেয় আদালতে। ২০১৭ সালে নভেম্বর তৎকালীন অতিরিক্ত চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. নুরুল ইসলাম আসামি কুলসুমকে পারভিন হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। 

সাজার পরোয়ানামূলে কুলসুম আক্তার কুলসুমীর পরিবর্তে মিনু ২০১৮ সালের ১২ জুন কারাগারে যান। গত ১৮ মার্চ চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শফিকুল ইসলাম খান নারী ওয়ার্ড পরিদর্শনকালে মিনু কোনো মামলার আসামি নন বলে জানান। তারপরই এ ঘটনা সামনে আসে।