আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপকমিটির সদস্যপদ থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত হেলেনা জাহাঙ্গীর ‘মাদার তেরেসা’ হিসেবে পরিচিতি পেতে চাইতেন বলে জানিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কুর্মিটোলায় র‍্যাব সদরদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এ তথ্য জানান।

সাধারণ মানুষকে সেবার উচ্চতা দেখিয়েছিলেন মাদার তেরেসা। তিনি এমন এক নারী, যিনি সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে যারা অবহেলিত অনাথ, তাদের বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন, সাধারণ থেকে অসাধারণ হয়ে উঠেছেন।

খন্দকার আল মঈন বলেন, হেলেনা সেই ‘মাদার তেরেসা’, ‘পল্লী মাতা’ ও ‘প্রবাসী মাতা’ হিসেবে পরিচিতি পেতে জয়যাত্রা ফাউন্ডেশনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতেন। তার পৃষ্ঠপোষকতায় কয়েকটি চক্র এমন ভুয়া খেতাব এর অপপ্রচার চালাতো।

র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক আরও বলেন, বিভিন্ন দেশী-বিদেশি ও সংস্থা ও ব্যক্তিবর্গের কাছ থেকে জয়যাত্রা ফাউন্ডেশনের নামে অর্থ সংগ্রহ করতেন হেলেনা। কিন্তু সেসব অর্থ মানবিক সহায়তায় ব্যবহারের চেয়ে তার নিজের প্রচার-প্রচারণায় বেশি ব্যবহার করা হতো। হেলেনা বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রেখে নিজের বিভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেন। তার প্রায় ১২ ক্লাবের সদস্যপদ রয়েছে।

এদিকে আওয়ামী লীগ থেকে পদ হারানো ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও টেলিযোগাযোগ আইনে মামলাগুলো দায়ের করা হবে।

সম্প্রতি আওয়ামী লীগের উপকমিটি থেকে অব্যাহতি পাওয়া হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১২টার দিকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। রাত ৮টা থেকে হেলেনার গুলশানের বাসায় অভিযান শুরু হয়। সেই অভিযান চলে রাত সোয়া ১২টা পর্যন্ত। এরপর তাকে তুলে নেন র‌্যাব সদস্যরা। অভিযানে হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ আমদানি করা মদ, ক্যাসিনো খেলার সরঞ্জাম, ওয়াকিটকি, চাকু উদ্ধার করা হয়।