করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে জাপান রাজধানী টোকিও এবং ওসাকা সিটির আশপাশের এলাকার জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়াচ্ছে।  

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই বিধিনিষেধের সময়সীমা আগামী ২ আগস্ট থেকে শুরু করে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। জাপানের সংক্রমণের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠা ওকিনাওয়া দ্বীপ ও রাজধানীতে টোকিওতে জরুরি অবস্থার সময়সীমা আরও বাড়তে পারে বলে জাপান সরকার জানিয়েছে। 

দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় পঞ্চাশ ভাগই এখন জরুরি অবস্থার মধ্যে রয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে দেশটির আরও পাঁচটি এলাকাকে ‘আধা জরুরি’ অবস্থার মধ্যে নিয়ে আসার পরিকল্পনা চলছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ডেল্টা ভেরিয়েন্টের বিস্তার অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়েই চলেছে। তিনি আশঙ্কা করছেন, সংক্রমণ বাড়তে থাকলে হাসপাতালে শয্যা সঙ্কট দেখা দিতে পারে।

গত বছর করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হওয়ার পর জাপানে জরুরি অবস্থার চতুর্থ ধাপ চলছে। গত বৃহস্পতিবার জাপান সরকার জানিয়েছে, প্রতিদিন গড়ে ৩ হাজার ৩০০ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার দেশটিতে রেকর্ডসংখ্যক ৩ হাজার ৮৬৫ জন আক্রান্ত হওয়ার খবর আসে। রাজধানী টোকিওর হাসপাতালগুলোর ৬৪ শতাংশ শয্যাতেই এখন মরণাপন্ন রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে।

জাপানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, জরুরি অবস্থার মধ্যেও জাপান ‘অত্যন্ত ভীতিকর’ এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।

‘এটা সত্যিই এক উদ্বেগের বিষয়। আমরা জানি না এ পরিস্থিতি আরও কত দিন চলবে। জনগণ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারছে না।  এটা ক্রমেই অসহনীয় হয়ে উঠছে।’

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানা লকডাউনে থেকে বিরক্ত হয়ে জাপানি নাগরিকদের একাংশ এখন বিধিনিষেধ ভঙ্গ করতেও শুরু করেছেন। 

এদিকে অলিম্পিক গেমসের আয়োজকরা বলছেন, করোনা থেকে সুরক্ষার জন্য তারা সব ধরণের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। ‘ অলিম্পিক বাবলে’ থাকা কোচ ও ক্রীড়াবিদদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ করোনার টিকা নিয়েছেন।  প্রতিটি ইভেন্টের আগে করোনা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাদের চলাচলও সীমিত করা হয়েছে। 

অলিম্পিক গেমস আয়োজকরা জানিয়েছেন, খেলা চলাকালে গত শুক্রবার ক্রীড়াবিদদের নমুনা পরীক্ষায় ২৭ জন করোনা শনাক্ত হয়েছেন। জুলাইয়ের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ২২০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন অলিম্পিক ভিলেজে। 

স্টেডিয়ামে না গিয়ে টেলিভিশনে অলিম্পিক গেমস উপভোগের অনুরোধ জানিয়ে নাগরিকদের উদ্দেশে জাপানের প্রধান মন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা বলেন, ‘আমি অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলছি… যতক্ষণ না পর্যন্ত আমরা টিকাদান কর্মসূচির প্রভাব আরও বেশি দেখতে পাচ্ছি…আপনারা দয়া করে স্বাস্থ্য সচেতনতা মেনে চলুন… সতর্ক থাকুন।’

জাপানে নাগরিকদের মধ্যে ৩০ শতাংশ ভ্যাকসিনের আওতায় এসেছে।