ঢাকা বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

এমপি মৃনাল ও নদভীর জবাব, শোকজ শামীম ওসমানসহ ৬ প্রার্থীকে

আচরণবিধি লঙ্ঘন

এমপি মৃনাল ও নদভীর জবাব, শোকজ শামীম ওসমানসহ ৬ প্রার্থীকে

.

 সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩ | ০০:৩৯ | আপডেট: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩ | ০৮:৩১

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থী। তারা হলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ (সদর-গজারিয়া) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মৃনাল কান্তি দাস ও চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের এমপি আবু রেজা নদভী। গতকাল শনিবার সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যানের কাছে ব্যাখ্যা দেন তারা। এদিকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে শোকজ করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী এ কে এম শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে জাপার প্রার্থী লিয়াকত হোসেন খোকাসহ ছয়জনকে।

মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে নৌকার প্রার্থী অ্যাডভোকেট মৃনাল কান্তি দাস গতকাল সকালে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এর বিচারক ফাহমিদা খাতুনের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা দেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মনোনয়ন পাওয়ায় মানুষ উচ্ছ্বসিত ছিল। ঢাকা থেকে ২৭ নভেম্বর মুন্সীগঞ্জ এলে তারা ঘিরে ধরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। অনভিপ্রেত এ ঘটনায় আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না। আমি আচরণবিধির শতভাগ মেনে চলব।’

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের এমপি প্রার্থী আবু রেজা নদভী নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান সিনিয়র সহকারী জজ শাহনেওয়াজ মনির কাছে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। পরে নদভীর আইনজীবী শোয়েব আলী চৌধুরী বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল মোতালেব দেওদীঘি ও কেরানীহাট এলাকায় তাঁর সমর্থকদের মারধরের যে অভিযোগ করেছেন, সে বিষয়ে আবু রেজা নদভী অবগত নন বলে জানিয়েছেন।

এ আসনে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে সমর্থকদের গাড়ি আটকে মারধরের অভিযোগ করেছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল মোতালেব। পরে শুক্রবার নৌকার প্রার্থী আবু রেজা নদভীকে শোকজ করে কমিটি।
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে গতকাল নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকাকে শোকজ করেছে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি। উভয় প্রার্থী বা তাঁর কোনো প্রতিনিধিকে সংশ্লিষ্ট কমিটির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া শামীম ওসমানের অনুসারী যুবলীগ নেতা জানে আলম বিপ্লবকে শোকজ করা হলে গতকাল তিনি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজির হয়ে লিখিতভাবে ক্ষমাপ্রার্থনা করেন।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহমুদুল হক এসব তথ্য জানিয়েছেন।

গত শুক্রবার শামীম ওসমানের পক্ষে ভোট চেয়ে ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পাড়া-মহল্লায় মিছিল করেন তাঁর অনুসারীরা। গত বৃহস্পতিবার কয়েকশ নেতাকর্মী ও সমর্থকের মিছিল নিয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন লিয়াকত হোসেন খোকা। এ ছাড়া গত বৃহস্পতিবার যুবলীগ নেতা জানে আলম বিপ্লবের নেতৃত্বে ফতুল্লার তল্লা এলাকায় শামীম ওসমানের পক্ষে নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে মিছিল হয়।

সুনামগঞ্জ-১ (তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রনজিত সরকারকে শোকজ করেছেন নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান জেলার সিনিয়র সহকারী জজ প্রবাল চক্রবর্তী। আগামীকাল সোমবার তাঁকে এ বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

গত বুধবার রনজিত সরকারকে বরণে মোটরসাইকেল শোডাউন হয়। শোডাউনসহ তিনি ৪০ কিলোমিটার সড়ক প্রদক্ষিণ করে তাহিরপুর উপজেলা সদরে বক্তব্যে নৌকার জয় সুনিশ্চিত করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। জানতে চাইলে রনজিত সরকার বলেন, ‘আমি আচরণবিধি লঙ্ঘন করিনি। যেহেতু ব্যাখ্যা চেয়েছে, আমি সেটি দেব।’

সিলেট-২ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়াকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে শোকজ করেছে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি। তাঁকে আজ রোববার কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোস্তাইন বিল্লাহর কাছে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

গত ৩০ নভেম্বর সিলেট জেলা রিটার্নিং কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করার সময় এহিয়া মিছিল করে আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন বলে শোকজে উল্লেখ করা হয়েছে।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ফরিপুর-২ (নগরকান্দা, সালথা) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ জামাল হোসেন মিয়াকে শোকজ করা হয়েছে। শুক্রবার সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান সিনিয়র সহকারী জজ (সদর) কাঞ্চন কুমার কুন্ডু সোমবারের মধ্যে তাঁকে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলেছেন।

জামাল হোসেন নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত এ নেতা বলেছেন, ওই দিন এত লোক হবে তা আমি স্বপ্নেও ভাবিনি। স্বতঃস্ফূর্ত মানুষের আবেগ রোধ করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। আদালতের নির্দেশনা পেলে, সে অনুযায়ী বক্তব্য দেব।

এ ছাড়া সহস্রাধিক মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসের শোভাযাত্রার মাধ্যমে নোঙর প্রতীক নিয়ে গতকাল নির্বাচনী এলাকায় ফিরেছেন বিএনপি ছেড়ে বাংলাদেশ ন্যাশনাল মুভমেন্টে (বিএনএম) যোগ দেওয়া দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ মো. আবু জাফর। পরে ফরিদপুর-১ (মধুখালী, বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা) আসনের এ প্রার্থী তিনটি উপজেলায় শোভাযাত্রা করেন।

শাহ জাফর বলেন, ‘দীর্ঘদিন বিএনপি করলেও মর্যাদা পাইনি। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়লে রাজনৈতিক সহকর্মীরা পাশে দাঁড়ান এবং আমরা নতুন দল গঠনের সিদ্ধান্ত নিই। অন্যায়-অবিচার, শোষণ-নিপীড়ন প্রতিরোধে আন্দোলন করতেই বিএনএমের সৃষ্টি। সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে চাই, তাদের জন্য কাজ করতে চাই।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের পাঠানপাড়া এলাকায় বিএনএমের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল মতিনের বাড়িতে ককটেল হামলা হয়েছে। গতকাল রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ হামলা করে দুর্বৃত্তরা। পরে পুলিশ অবিস্ফোরিত একটি ককটেল উদ্ধার করে। আব্দুল মতিন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পদ ছেড়ে সম্প্রতি বিএনএমে যোগ দেন।

সদর মডেল থানার ওসি সাজ্জাদ হোসেন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

[প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন ব্যুরো, অফিস ও সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিরা]

আরও পড়ুন

×