নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলায় দুই শিশুকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা দেওয়ার ঘটনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুলতানা রাজিয়ার কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন হাইকোর্ট। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেওয়া ব্যাখ্যার এক কপি আগামী ২৬ আগস্টের মধ্যে হাইকোর্টে দাখিল করতে বলা হয়েছে। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের একক ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন।

আদালতের আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি সাংবাদিকের জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুলতানা রাজিয়ার কাছে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ব্যাখ্যা চেয়েছেন। ওই ব্যাখ্যা হাইকোর্টে দাখিল করার নির্দেশনা চেয়েছিলেন। পরে আদালত ব্যাখ্যার একটি কপি দাখিলের আদেশ দিয়েছেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

গত ৪ আগস্ট একটি জাতীয় দৈনিকে  ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে দুই শিশুকে দণ্ড’ শিরোনামে  প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুলতানা রাজিয়া ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে দুই শিশুকে এক মাসের সাজা দিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়।

ওই প্রতিবেদনটি হাইকোর্টের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। পরে সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র সাইফুর রহমান এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, ‘নেত্রকোনায়  শিশুর সাজা দেওয়ার বিষয়টি হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের একক ভার্চুয়াল বেঞ্চের নজরে আনা হয়। আদালত তখন দুই শিশুকে মুক্তি দেয়ার বিষয়ে নির্দেশ দিয়ে নেত্রকোনার ডিসিকে অবহিত করার জন্য নির্দেশ দেন। পরে নেত্রকোনা ডিসিকে টেলিফোনে আদালতের আদেশের বিষয়টি অবগত করা হয়। তখন তিনি জানান, ওই দুইজন শিশুকে ইতোমধ্যে আপিল শুনানি করে মুক্তি দেয়া হয়েছে।’