র‌্যাবের হাতে আটক হয়েছেন টিকাদার নজরুল রাজ। তরুণীদের  দিয়ে ব্ল্যাকমেইলিং ছাড়াও পর্নোগ্রাফি ভিডিও বানাতেন রাজ। বুধবার পরীমণির বাসার অভিযান শেষে রাজ-এর বাসায় হানা দেয় র‌্যাব। উদ্ধার করা হয় বিকৃত যৌনাচারের সরঞ্জাম। 

র‌্যাব জানায় নজরুল রাজের বাসায় ও অফিসে শোবিজ ও শোবিজের বাইরে অনেক মানুষের যাওয়া-আসা ছিলো। তাদের অনেকেই রয়েছে তাদের নজরদারিতে। 

রাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার নজরুল ইসলাম রাজ-এর শোবিজ জগতে ক্যারিয়ার শুরু হয় ২০১৪ সালে। এরপর নাটক ও সিনেমা প্রযোজনা শুরু করেন তিনি। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন রাজ মাল্টিমিডিয়া। এই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের আড়ালেই তরুণীদের দিয়ে অনৈতিক কাজ করাতেন রাজ। গ্রেফতারের পর এমনটাই জানিয়েছে র‌্যাব।

বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) বিকালে র‍্যাব সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, রাজ মাল্টিমিডিয়া নামে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান গড়েন নজরুল ইসলাম রাজ। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অনৈতিক কাজ করে বিপুল অংকের অর্থের মালিক হয়েছেন তিনি। ব্যবসায়িক ও চিত্রজগতের দুই ক্ষেত্রে তার সংযোগ থাকায় তিনি অতিরিক্ত অর্থ লাভের আশায় উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে নিজ অবস্থানের অপব্যবহার করেন।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন আরো বলেন, রাজ গ্রেফতার শরফুল হাসান ওরফে মিশু হাসান ও মাসুদুল ইসলাম ওরফে জিসান-এর সহযোগিতায় ১০-১২ জন তরুণী নিয়ে একটি অপরাধচক্র তৈরি করেন। এই চক্রটি গুলশান, বনানী, বারিধারাসহ রাজধানীর অভিজাত এলাকায় ডিজে পার্টির আয়োজন করতো। এসব পার্টিতে মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অনৈতিক কার্যক্রম সংঘটিত হতো। এসব পার্টিতে অংশগ্রহণকারীদের থেকে বিভিন্নভাবে মোটা অংকের অর্থ সংগ্রহ করা হতো। এরই মাধ্যমে রাজসহ এই চক্রের সদস্যরা রাতারাতি বিপুল পরিমাণ অর্থের মালিক বনে যান।