নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম ফুডস অ্যান্ড কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত আরও ২১ জনের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গ থেকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গ থেকে স্বজনদের লাশ বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এর আগে গত বুধবার পরিবারের কাছে ২৪ শ্রমিকের লাশ হস্তান্তর করা হয়েছিল। 

শনিবার সকালে মর্গ থেকে স্বজনদের লাশ হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় উপস্থিত থাকা নারায়ণগঞ্জ জেলা সিআইডির বিশেষ সুপার দেলোয়ার হোসেন বলেন, লাশ দাফনের জন্য স্বজনদের হাতে নগদ ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের সহায়তায় বাড়ি পর্যন্ত লাশ পৌঁছে দিচ্ছেন তারা। ওই ট্র্যাজেডিতে নিহত আরও তিন হতভাগ্য শ্রমিকের লাশ মর্গে পড়ে আছে এখনও। তাদের সঙ্গে সংগ্রহ করা ডিএনএ নমুনার মধ্যে কারো নমুনা মেলেনি। তাদের পরিচয় সনাক্তের সব ধরনের চেষ্টাই চলছে।

দ্বিতীয় দফায় হস্তান্তর হওয়া ১০ শ্রমিকের মরদেহের মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার এক এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ ৫ জন, করিমগঞ্জ উপজেলার ২ জন, কটিয়াদী উপজেলার ২ জন ও মিঠামইন উপজেলার ১ জন রয়েছেন।

⁠তারা হলেন, সদর উপজেলার দানাপাটুলী ইউনিয়নের কালিয়াকান্দা গ্রামের চান মিয়ার ছেলে নাজমুল ইসলাম (১৫), বৌলাই ইউনিয়নের রঘুনন্দন গ্রামের মৃত আবদুল মালেকের মেয়ে মাহমুদা আক্তার (১৭), কর্শাকড়িয়া ইউনিয়নের চিকনীরচর গ্রামের রাজীব মিয়ার স্ত্রী আমেনা খাতুন (৩০), দানাপাটুলী ইউনিয়নের গাগাইল গ্রামের মঞ্জিল ভূঁইয়ার স্ত্রী মিনা খাতুন (২৮) ও চৌদ্দশত ইউনিয়নের বড় খালেরপাড় গ্রামের হেলিম মিয়ার স্ত্রী রহিমা (৩০)।

আরও রয়েছেন, করিমগঞ্জ উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের মাথুরাপাড়া গ্রামের কাইয়ুম মিয়ার স্ত্রী পাখিমা আক্তার (৩৭) ও নোয়ামবাদ ইউনিয়নের মোলামখারচর গ্রামের সুজন মিয়ার মেয়ে ফাতেমা আক্তার (১৫)। কটিয়াদী উপজেলার সহশ্রাম ধুলদিয়া ইউনিয়নের গৌরীপুর গ্রামের বাচ্চু মিয়ার মেয়ে তাছলিমা আক্তার (১৮) ও একই গ্রামের চান্দু মিয়ার মেয়ে রাবিয়া আক্তার (১৯)। মিঠামইন উপজেলার গোপদিঘী ইউনিয়নের গোপদিঘী গ্রামের সেলিম মিয়ার মেয়ে সেলিনা আক্তার (১৪)।

⁠গত বুধবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গ থেকে ২৪টি মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে সিআইডি। যাদের মধ্যে ৯ জনই ছিলেন কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা।

⁠শনিবার ১০ জনের মরদেহ হস্তান্তর হলে আরও দুই শ্রমিক নিখোঁজ থাকবেন। তারা হলেন করিমগঞ্জ উপজেলার গুনধর ইউনিয়নের বড়হাটি গ্রামের বাবুল মিয়ার স্ত্রী রহিমা (২৫) ও একই উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়নের বাদেশ্রীরামপুর গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে শিশু শ্রমিক মুন্না (১৫)।

গত ৮ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কর্ণগোপ এলাকার হাসেম ফুডস লিমিটেডের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৫২ জন নিহত হন। মৃতদের মধ্যে ১০ জনের বাড়ি কিশোরগঞ্জে।